‘নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নের দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নের দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। সুলতানা কামাল বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন নাগরিককে ব্যক্তিপরিসরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে সেই অভিযান জনসম্মুখে এবং মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার করার এখতিয়ার রাখে। তবে তা মিডিয়ায় প্রচার করায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্নের দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সবাই জ্ঞাত যে, বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদা সংরক্ষণের কথা বলা আছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ঘোষণার ১৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির নিজস্ব গোপনীয়, পরিবার, বাড়ি ও অনুরূপ বিষয়কে অযৌক্তিক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে না। মানবাধিকার সনদের ১১ নম্বর ধারায় বলা রয়েছে আইনানুসারে প্রকাশ্যে দোষী হিসেবে প্রমাণিত না হলে যেকোনো অভিযুক্তকে নির্দোষ বলে গণ্য করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে জনপরিসরে দাঁড় করানো হচ্ছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়। গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেউই বিচারক নয়। অথচ অভিযোগ প্রমাণের আগেই গণমাধ্যমে অভিযুক্তদের যেভাবে অপরাধী প্রতিপন্ন করা হচ্ছে তা নিয়ে রীতিমতো আশঙ্কা প্রকাশ করছে ‘আমরাই পারি’ জোট। জোটের চেয়ারপারসন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ সাধারণ নাগরিকের মধ্যে গভীর ভীতি সঞ্চার করছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই যেকোনো নাগরিককে হেনস্থা করার একটি অশুভ দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া ব্যতীত যে কারও বাসায় হানা দেয়া, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া এবং অভিযোগ প্রমাণের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটানোর ফলে আমাদের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ‘আমরাই পারি’ জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড যেন নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে ও নারীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করে। পাশাপাশি নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনীয় সংবাদ পরিবেশন থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।