দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, তবু বৃষ্টির জন্য আরও অপেক্ষা

0
নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। এর মধ্যেই ছাতা মাথায় সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি ।। ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ু অবশেষে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। শনিবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ এলাকা দিয়ে এই বায়ু প্রবেশ করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে মৌসুমি বায়ু আসা মানেই দেশজুড়ে বৃষ্টি হবে না — এখন এটিকে লড়তে হবে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পুবালি বাতাসের মধ্যে এখন একটা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। তাতে বৃষ্টি কয়েক দিন কম হতে পারে। বিশেষ করে ৯ থেকে ১০ জুন বৃষ্টি আরও কমতে পারে। সারা দেশে মৌসুমি বায়ু ছড়িয়ে পড়তে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এক সপ্তাহ দেরিতে এল বর্ষা

সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা দিয়ে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। এবার তা প্রায় এক সপ্তাহ দেরিতে এল। গত বছর ২৫ মের মধ্যেই এসে গিয়েছিল। দেরিতে আসার কারণে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির মোট সময় কমে আসছে।

পুরো মৌসুমেই বৃষ্টি কম হওয়ার শঙ্কা

এ বছর বর্ষা মৌসুমে সামগ্রীকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা। এর একটি কারণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুপ্রবাহ ‘এল নিনো’র সক্রিয়তা। জলবায়ুর একাধিক মডেলে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দেশে মোট বৃষ্টির বেশিরভাগ হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাইয়ে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুনে।

এদিকে টানা কয়েক দিনের তাপপ্রবাহের পর শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি মৌসুমি বায়ুর নয়, পশ্চিমা লঘুচাপের কারণেই হচ্ছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বৃষ্টিতে প্রকৃতিতে দীর্ঘক্ষণ শীতলতা থাকে না। কিন্তু মৌসুমি বায়ুতে বৃষ্টির পরপরই ঠান্ডা অনুভূতি আসে।