গণতান্ত্রিক সরকার ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিজম তৈরি হবে : নার্গিস বেগম

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিজম তৈরি হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমরা যারা রাজপথে ছিলাম আজ সেই সকল বন্ধুরা কথায় কথায় সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তারাই প্রতিনিয়ত অশ্লীল বক্তব্য দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আপনারা কেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চান? সরকারকে ব্যর্থ করতে পারলে দেশে তো আবার ফ্যাসিজম তৈরি হবে। তাহলে আপনারা (বিরোধী দল) কি চান ফ্যাসিবাদের আবার উত্থান কিংবা পুনর্বাসন হোক?

যশোর জেলা যুবদল আয়োজিত অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে যুবসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ দলীয় নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

ছবি: লোকসমাজ।

সমাবেশে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, তারেক রহমান জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু দুঃখের বিষয় কাজ শুরু করার পরই তারা সরকারকে নিয়ে প্রতিনিয়ত বিরূপ মন্তব্য করছে। কথায় কথায় রাজপথে নামার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে এদেশের মাটি থেকে চিরতরে ফ্যাসিস্টের মূল উৎপাটন করি, এ কথা তো আপনারা বলেন না। যারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করি, এ কথাও তারা বলেন না।

আপনারা সংস্কার এবং সংশোধনের নামে মনগড়া কথা বলছেন অরাজকতা সৃষ্টির জন্য। জামায়াতের সেক্রেটারি বলেছেন, ‘সংশোধন মানে সামান্য পরিবর্তন এবং সংস্কার মানে মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন’ বিভ্রান্তিটা এখানে। আপনারা বুঝে আসুন কোনটা চান?

তিনি বলেন, তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। দেশের রাজকোষ শূন্য, দেশ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত, এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনারা তো কোনো সময় এগুলোর যৌক্তিক সমাধানের কথা বলেন না। আপনারা বলছেন বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। অনবরত ফ্যাসিবাদ দমনের কথা বলে যাচ্ছেন।

ছবি: লোকসমাজ।

ফ্যাসিবাদ দমন করবেন কীভাবে, আপনি যদি ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলেন? আপনি যদি নির্বাচিত সরকারকে দুই মাসের মাথায় উৎখাত করার কথা বলেন, তাহলে আপনি কোনো গণতন্ত্রের কথা বলেন? বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে না। এই ইতিহাস বিএনপির নেই। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াই করার একমাত্র কৃতিত্ব বিএনপির রয়েছে। চরম বৈরী সময়ে বিএনপি এবং তার সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এককভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছিল। আমাদের ইতিহাস স্বৈরাচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইতিহাস।

ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করতে গিয়ে আমাদের প্রিয়নেত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তারপরও তিনি আপস করেননি। এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে। সুতরাং আমাদের ফ্যাসিবাদের রাস্তায় হাঁটবার কোনো কারণ নেই।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, যে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছিলাম, তেমনিভাবে চিরতরে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ নির্মূলে আমরা সমবেত হই। জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি।

যুবসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন, আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক আমিনুর রহমান মধু, নাজমুল হোসেন বাবুল, আরিফুল ইসলাম, ইমদাদুল হক ইমদা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রায়হান তুহিন, নগর যুবদলের সদস্য সচিব শেখ রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।