দুর্গোৎসব ঘিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন যশোরে এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে যশোরের মন্দিরগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে মাটির শেষ প্রলেপ, কোথাও চলছে রং-তুলির কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানোসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।

এরই মধ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে নজর কেড়েছে যশোর শহরতলীর চাচড়া বর্মনপাড়া শ্রীহরি মন্দির। এই মন্দিরে এবার একটি-দুটি নয়, নির্মাণ করা হচ্ছে ১০১টি প্রতিমা।

দুর্গোৎসব সামনে রেখে মাটি, খড় ও বাঁশের কাঠামোয় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেব-দেবীর প্রতিমা। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী ও দেব-দেবীর নানা রূপ। অধিকাংশ প্রতিমার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।

চাচড়া বর্মনপাড়া শ্রীহরি মন্দিরের এবারের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

আয়োজকেরা জানান, প্রতিবছর মন্দিরটিতে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবারই বিশেষভাবে ১০১টি প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব প্রতিমার মাধ্যমে সনাতন ধর্মের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি ও দেব-দেবীর বিচিত্র রূপ তুলে ধরা হবে।

বর্মনপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মন বলেন, ‘প্রতিবছরই এখানে দুর্গাপূজা হয়। তবে এবারের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ১০১টি প্রতিমা।’ এই আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা মন্দিরে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা নিষ্কৃতি বর্মন বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা বিভিন্ন মণ্ডপে পূজা দেখতে যাই। এবার আমাদের মন্দিরে বিশেষ আয়োজন থাকায় নিজেদের এলাকাতেই পূজার আনন্দ উপভোগ করতে পারব।’

শিপ্রা বর্মন বলেন, ‘বিয়ে হওয়ার পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে প্রতিবছর দুর্গাপূজা দেখছি। তবে এবারই প্রথম এমন বিশেষ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।’

আয়োজকদের ভাষ্য, ১০১টি প্রতিমা নির্মাণে প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করেছেন শিল্পীরা। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রতিমার নির্মাণ শেষ হয়েছে। রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হলে পূর্ণতা পাবে পুরো আয়োজন।

আয়োজকরা জানান, ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে। দুর্গোৎসবের দিনগুলোতে ১০১ প্রতিমার এই আয়োজন মন্দিরটিকে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে রয়েছ শিশু ও নারীরা।