দুই ট্রেনের ফাঁকে বাজলো জীবনের ছুটির ঘণ্টা!

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ তাসফিয়া, মিম ও রীমা। প্রত‌্যেকেই দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিনই স্কুলে যাওয়ার পথে তাদের চোখেমুখে লেগে থাকতো ‘বিশ্ব জয়ের’ স্বপ্ন। কেউ স্বপ্ন দেখতো ডাক্তার হবে, কেউবা ইঞ্জিনিয়ার। আবার স্কুল শেষে ছুটির ঘণ্টা বাজলেই দিতো ভোঁ দৌড়। বাড়ির পাশের খেলার মাঠ যে ফাঁকা। দল বেঁধে খেলতে হবে সাথীদের সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু কে জানতো, রেলক্রসিংয়ে দুই ট্রেনের ফাঁকেই বাজবে তাদের ছুটির ঘণ্টা! বুধবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকের ঘটনা এটি। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তিন স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়। প্রত‌্যেকের বয়সই ১২’র মধ্যে।
স্থানীদের ভাষ‌্য- বিজয়পুর রেলওয়ে ক্রসিংয়ে পশ্চিম পাশে বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে রেলক্রসিংয়ের দুই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল। দুই দিক থেকে দুটি ট্রেন আসে। এসময় ওই তিন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম অভিমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেনে কাঁটা পড়ে মারা যায়। লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিমউদ্দিন খন্দকার জানান, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে বিজয়পুর রেলক্রসিংয়ে তিন স্কুল শিক্ষার্থী মারা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় লোকজন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু ঘটনাস্থলে এসে রেলক্রসিংয়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলে লোকজন অবরোধ তুলে নেয়।
এদিকে স্বজন হারানোর কান্নায় দুর্গাপুরের পুকুর পাড়ের নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। নিহত মিমের মা রুপা কাজ করেন কুমিল্লা ইপিজেডের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। বাবা মানসিক রোগী হওয়ায় সংসারের বোঝা রুপার কাঁধে। বুক চাপড়িয়ে মিমের মা রুপা বলেন, ‘এই মেয়েকে আমি বড় করেছি। আমার মেয়ে কোরআনে হাফেজা ছিল। আল্লাহ আমার বুকের ধন কাইরা নিলো গো।’ দুপুরের দিকে নিহতের বাড়িতে আসেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘সত্যিই মর্মান্তিক ঘটনা। ক্রসিংয়ে একটি ফুটওভার ব্রিজ করা দরকার। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি হবে।’ জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা হয়তো মায়ের কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে এনে দিতে পারবো না। তবে প্রশাসনিক সকল প্রকার সহায়তা করা হবে।’