যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের পাঁচ সংসদ সদস্যের

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং যোগ্য ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মণিরামপুর পৌরসভা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, যশোর সদর, অভয়নগর ও বাঘারপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব গুদামঘর না থাকা সত্ত্বেও কয়েকজনকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে মণিরামপুর পৌরসভার মেসার্স নাফিজ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সওদাগর ট্রেডার্স, চৌগাছার মেসার্স রুস্তম আলী ট্রেডার্স, অভয়নগরের মেসার্স মনিরুল ফারাজী, মণিরামপুরের ঝাপা ইউনিয়নের মেসার্স লাকি এন্টারপ্রাইজ এবং নেহালপুরের মেসার্স সরদার এন্টারপ্রাইজের নাম উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন লাইসেন্সধারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে তাঁদের কাছে নথিপত্র রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিলার নিয়োগের সুপারিশ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরই তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গত ৫ অক্টোবর তিনি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সার ডিলার নিয়োগ ও মনিটরিং কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মনিটরিং কমিটিতে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ত রাখা হয়নি।

সংসদ সদস্যদের মতে, মনিটরিং কমিটিতে তাঁদের সম্পৃক্ততা না থাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোস্তার আলী। যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক চিকিৎসাধীন থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শহর আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।