দীপু মনির স্বামীর প্রয়াণ: জেলা প্রশাসকের আদেশে ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর

0
প্রয়াত স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর আদেশে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন কারাবন্দী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।। ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি। মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাঁর এই প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, “আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসক ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই মুক্তি কার্যকর থাকবে।”

দীপু মনির আইনজীবী আরও জানান, দীপু মনির কারাবরণের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে পূর্বে একাধিকবার আবেদন করা হলেও অনুমতি মেলেনি। শেষপর্যন্ত স্বামীর মৃত্যুর পরই তিনি প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পেলেন।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর প্যারোলে মুক্তির আইনি আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে যান তাঁর মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। কারাগারে গিয়ে তানী দীপাবলি তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরবর্তীতে তাঁরা প্যারোলে মুক্তির লিখিত আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) রাত ১০টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন। কয়েক দিন আগে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সিগঞ্জ কারাগার থেকে পুলিশ পাহারায় দীপু মনিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়াত তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তাঁর নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে, যেখানে দীপু মনি স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখবেন। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

প্যারোলে মুক্তির আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম বলেন, “কারা আইন ও কারাবিধিতে দিনের আলোতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান আছে। এ ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার আছে। সেই বিধান অনুযায়ী আমরা ১২ ঘণ্টার প্যারোল পেয়েছি। তবে সরকার চাইলে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্যও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারত।”