দিঘলিয়ায় তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া অসচ্ছল পরিবারের পাশে ইউএনও

0
ছবি: সংগৃহীত।

জামাল হোসেন, খুলনা ॥ খুলনার দিঘলিয়ায় একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়া দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম ও চাঁদনী বেগম দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ।

অসচ্ছল এই পরিবারের নবজাতকদের লালন-পালন ও চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর পেয়ে তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে ইউএনও সুজন দাস গুপ্ত উপজেলার পানিগাতি গ্রামে জাহিদুলের বাড়িতে যান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে চাল, ডাল, তেলসহ ৩৬ কেজি শুকনো খাবার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এই পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

ইউএনও সুজন দাস গুপ্ত জানান, একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবর পেয়ে আমি বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়িতে যাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই শিশু ও তাদের মায়ের চিকিৎসা ও লালন-পালনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রসূতি চাঁদনী বেগমকে (২০) উপজেলার পথের বাজার সার্জিকাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টার দিকে তিনি স্বাভাবিকভাবে (নরমাল ডেলিভারি) তিনটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান—ফাতেমা, আমেনা ও আয়েশার জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক তিনটি সুস্থ রয়েছে। তারা পানিগাতি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে।

পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল-চাঁদনী দম্পতির ১৭ মাস বয়সী রায়হান নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পেশায় দিনমজুর জাহিদুলের একার সামান্য আয়ে চার সন্তানের ওষুধ, গুঁড়োদুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আনন্দের মাঝেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাছিল পরিবারটির।

উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী এই সহায়তায় পরিবারটি কিছুটা আশার আলো দেখলেও তিন নবজাতকের দীর্ঘমেয়াদী লালন-পালনে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সন্তানের মা-পিতা ও স্বজনরা।