দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, বৃষ্টির সম্ভাবনা

0

আকরামুজ্জামান ॥ যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বইছে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ। বুধবার ভোরে তীব্র ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় এ অঞ্চলের প্রকৃতি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কুয়াশার কারণে বিমান ও সড়ক পরিবহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। দিনের বেলায়ও লাইট জ্বালিয়ে পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়। আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে বুধবার সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ অঞ্চলে ফের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যশোর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যাই হোক না কেনো সকাল থেকে ঘন কুয়াশার কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বৃহস্পতিবার এ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। যে কারণে তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এরপর আবার গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। বৃৃষ্টি থামলেই আরেকদফা তীব্র শীত জেঁকে বসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ঘন কুয়াশায় কারণে গতকাল মানুষকে চলাচলে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও বিমান চলাচলে দেখা দেয় সীমাহীন বিপর্যয়। কুয়াশায় মানুষের দৃষ্টিসীমা কয়েক মিটারের মধ্যে চলে আসে। যে কারণে সড়কে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে দিতে হয়। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে যশোর উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ পরিবহন হেডলাইট জ্বালিয়ে আসছে। কথা হয় ঈগল পরিবহনের একজন চালকের সাথে। তিনি বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে গাড়ি নিয়ে চলাচল খুবই অসুবিধা হচ্ছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। তারপরও রাস্তা পুরোটা দেখা যাচ্ছে না। যে কারণে চরম ঝুঁকিতে আছেন বলে তিনি জানান। সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি বিমান চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। কুয়াশার কারণে যশোর বিমানবন্দরে সকালের দিকের প্রতিটি ফাইট সময় রক্ষা করতে পারেনি। সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে যাতায়াত করে। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলার যশোর বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাব্বির হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে বুধবার সকালে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে কোনো বিমান উঠানামা করেনি যশোর বিমানবন্দর থেকে। সকালে ইউএস বাংলার ফাইট দুই ঘণ্টা দেরি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড়ে যায়। অন্যান্য ফাইটেরও একই অবস্থা বলে তিনি জানান। এদিকে কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। একমাত্র খেটে খাওয়া দিনমজুররা বের হচ্ছেন জীবিকার তাগিদে। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে সকালের দিকে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। শহর এলাকাতেও মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যায়। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে শীতবস্ত্রের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জেলার শীতার্ত মানুষরা। আবহাওয়ার এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সকালে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরদের। বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি অফিস জানিয়েছে, তীব্র শীত ও কুয়াশার প্রভাব বিলম্বিত হলে আক্রান্ত হতে পারে বীজতলা। অবশ্য ইতোমধ্যে কৃষকরা রাতে বীজতলা পলিথিনে ঢেকে রাখতে শুরু করেছেন। জেলার বাঘারপাড়ার তেলিধান্যপাড়া এলাকার কৃষক নূর আলী জানান, শীতের পাশাপাশি তীব্র কুয়াশার কারণে আমরা বীজতলা নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ধানের চারার ক্ষেত রক্ষা করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি আলুক্ষেতে ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ বর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের কাছে পরামর্শ চেয়েও কোনো সুরাহা করতে পারছি না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ’কৃষকদের এসব অভিযোগ সঠিক নয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার ৮ উপজেলার বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে। তখন আর কোনো সমস্যা হবে না’।