থ্রি পিসের দাম বেশি হলেও বিক্রি বেড়েছে

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ ঈদ যতই এগিয়ে আসছে যশোরের বাজারে কাটতি বাড়ছে থ্রি পিসের। বিক্রেতারা বলছেন রমজানরে প্রথম দশকে বেচা বিক্রি ভালো না হলেও বর্তমান বেশ জমাজমাট চলছে। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ বিক্রেতারা ক্রেতার অবস্থান বুঝে পণ্যের দাম হাকাচ্ছেন। আবার বিক্রেতাদের অভিযোগ প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। ক্রেতা বিক্রেতার দর কষাকষির মধ্যে এবারের ঈদ বাজারে থ্রি পিস কেনাবেচা চলছে।

যশোর কালেক্টরেট মার্কেট ও এইচএমএম রোডে দোকান ঘুরে এমন চিত্র উঠে আসে। এই প্রতিবেদক প্রথমেই ক্রেতা সেজে থ্রি পিসের মূল্য যাচাই করেন। সেখানে দেখা যায়, দেশীয় সুতি কাপড়ের একটি থ্রি পিসের দাম হাকানো হচ্ছে দেড় থেকে তিন হাজার টাকার বেশি। জর্জটের কাপড়ের একটি থ্রি পিসের মূল্য হাকানো হচ্ছে দুই থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। ইন্ডিয়ান সুূতি কাপড়ের থ্রি পিসের মূল্য হাকানো হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন কিংবা চার হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার জর্জেটের একটি থ্রি পিসের মূল্য হাকানো হচ্ছে সাড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। সফট সিল্ক কাপড়ের থ্রি পিসের মূল্য হাকানো হয়েছে চার হাজার ২ শ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে পাঁচ ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার পাকিস্তানি সাড়ে তিনি থেকে ছয় হাজার টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতার পছন্দের কোনো শেষ নেই। অধিকাংশ ক্রেতার কাছে সুতি এবং জর্জেট কাপড়ের থ্রি পিসটা বেশি পছন্দ। আবার ক্রেতারা বলছেন, পছন্দ হলেই বিক্রেতারা দ্বিগুণ দাম হাকাচ্ছেন।

কালেক্টরেট মার্কেটে থ্রি পিস কিনতে আসা রাফেয়া আক্তার বলেন, পছন্দ হলেও বিক্রেতারা দাম বেশি হাকাচ্ছেন। যে কারণে তাদের সাথে দর কষাকষি করে কিনতে হচ্ছে। তারপরও ঈদ বাজার করার কিছু নেই। পছন্দের থ্রি পিসটি কিনতে হলে বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে।

কালেক্টরেট মার্কেটের বেশ কয়েক দোকান ঘুরে মুক্তা ক্লথ অ্যান্ড থ্রি পিস গ্যালারিতে যান এই প্রতিবেদক। এই প্রতিবেদকের সামনে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধি দেশীয় একটি থ্রি পিস সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এরপর এই প্রতিবেদক নিজেও ক্রেতা সেজে একই থ্রি পিসের মূল্য যাচাই করেন। তার কাছে একই দাম চাওয়া হয়। পরে সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে তার কাছে সেটি আড়াই হাজার টাকা দাম চাওয়া হয়। বেচা বিক্রি নিয়ে পাশে থাকা প্রতিষ্ঠানটি মালিক মোহাম্মদ ইউসুফের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, প্রতি বছর রমজানের প্রথম দশকের শেষের দিক থেকে থ্রি পিস বিক্রি শুরু হয়। এরপর জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়, কিন্তু এবছর দ্বিতীয় দশকের শেষের দিকে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

এইচ.এম.এম রোডের বিশ্বাস টেক্সটাইলের স্বত্বাধকারীর আব্বাস বিশ্বাস বেচা বিক্রি নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবার থ্রি-পিস অনেক দেরিতে বেচা বিক্রি শুরু হয়েছে। দেরিতে শুরু হলেও এই মুহূর্তের বেচাবিক্রি অনেক ভালো। এবার গজ কাপড়ের থ্রি পিস বিগত বছরের তুলনা অনেক কম বিক্রি হয়েছে।