তৃতীয় লিঙ্গের রেশমা হত্যা মামলায় প্রেমিক ফারুকসহ ৮ জনের নামে চার্জশিট

0

স্টাফ রিপোর্টার ।। বেনাপোলে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্ব›দ্বসহ নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে প্রেমিক ফারুক হোসেন ও জাফর হোসেন কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে হত্যা করেছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের শেখ রেশমাকে। হত্যার পর একটি কবরস্থানে তার লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিলো। পুলিশের তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রেমিক জাফর হোসেনসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের এসআই শংকর কুমার বিশ্বাস।

অভিযুক্তরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর পশ্চিম পাড়ার মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে জাফর হোসেন, মৃত নুর ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন, সামির হোসেন ওরফে সামিদ ওরফে আব্দুস ছানির ছেলে আল মামুন, গহর আলী শেখের ছেলে শরীফ শেখ ওরফে শরীফ, প্রবাসী লিটনের ছেলে সাগর উদ্দিন, মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে হোসাইন, মৃত মোসলেম মোড়ল ওরফে ফটকা মোসলেমের ছেলে টিটু মোড়ল ওরফে টিটু আহম্মেদ ও নাসির উদ্দিনের ছেলে আতাউল্লাহ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ মার্চ বিকেল ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম গোপন সূত্রে জানতে পারেন, বেনাপোল কাগজপুকুরের বাসিন্দা তৃতীয় লিঙ্গের শেখ রেশমা খাতুনকে হত্যার পর লাশ গুম করে রেখেছেন তার প্রেমিক ফারুক হোসেনসহ আর কয়েক ব্যক্তি। পরে তিনি ফারুক হোসেনকে আটক করেন।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হোসেন স্বীকার করেন, তাকেসহ তার কয়েকজন বন্ধুকে বিভিন্নভাবে ফাঁসানোর কারণে শেখ রেশমাকে গত ৩ মার্চ রাতে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে কাগজপুকুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শ্বাসরোধে এবং মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছেন।

হত্যার পর তার লাশ মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। পরে তারই স্বীকারোক্তিতে কবরস্থানে মাটিচাপা দিয়ে রাখা তৃতীয় লিঙ্গের শেখ রেশমার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এসআই মফিজুল ইসলাম ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই শংকর কুমার বিশ্বাস তদন্তকালে জানতে পারেন, শেখ রেশমা ও তার প্রেমিক জাফর একসাথে সীমান্ত এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতেন। কখনো নিজেদের মধ্যে মাদকের ব্যবসা নিয়ে দ্ব›দ্ব সৃষ্টি হলে জাফরকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিতেন রেশমা। আবার তাকেই পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনতেন রেশমা। বিষয়টি জাফর জানতে রেশমার ওপর ক্ষিপ্ত হন।

এরই মধ্যে বেনাপোল এলাকার সোহাগের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করতে থাকেন রেশমা। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে গিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন জাফর। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করে রেশমা। ওই মামলায় সাক্ষি করা হয় আরেক প্রেমিক ফারুককে। কিন্তু ফারুক মামলায় সাক্ষ্য দিতে রাজী না হওয়ায় তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন রেশমা। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি করতেন রেশমা।

এরই জের ধরে ঘটনার দিন রাতে কৌশলে রেশমাকে ডেকে এনে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে কবরস্থানে নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনার সাথে উল্লিখিত ৮ জন জড়িত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে। এ কারণে তাদেরকে অভিযুক্ত করে গত ২৭ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।