টিএসআই রফিকসহ চার জনের নামে আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অপহরণের পর জোরপূর্বক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক টিএসআই রফিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বুধবার আমলী আদালতে মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম মন্ডল মামলাটি করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মোস্তফা মাহফুজুর রহমান।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী শিকদারের দুই ছেলে শফিকুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম এবং যশোর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আশকার হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের চাল বাজারের পাশের একটি কাপড়ের দোকানে শহিদুল ইসলাম মন্ডলের সাথে টিএসআই রফিকের পরিচয় হয়। এ সময় শহিদুল ইসলাম মন্ডল তার দুই ছেলেকে পুলিশের চাকরিতে দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। সেই সময় টিএসআই রফিক তার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে রাখেন । এর ৫/৬ দিন পর টিএসআই রফিক তার দুই সহকর্মী পুলিশ সদস্যকে সাথে নিয়ে শহিদুল ইসলাম মন্ডলের পাঁচবাড়িয়ার বাড়িতে যান এবং তার দুই ছেলের শরীর দেখে চাকরির নিশ্চয়তা দেন। এরপর রফিক তার জমির খোঁজ নেন। এক পর্যায়ে শহিদুল ইসলাম মন্ডলের এক দাগের ২ একর ১০ শতক জমির দেখে টিএসআই রফিক সেখানে হাঁস-মুরগি ও গরুর খামার করার প্রস্তাব দেন এবং জমির কাগজপত্র নিয়ে যান। ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর যশোর পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এদিন শহিদুল ইসলাম মন্ডলের দুই ছেলে পুলিশ লাইন্স মাঠে গেলে টিএসআইর রফিক তাদের সেখানে দাঁড় করিয়ে চলে যান। তবে প্রাথমিক বাছায়ে শহিদুল ইসলাম মন্ডলের দুই ছেলে বাদ পড়ে যান। বিষয়টি যশোর ফাঁড়িতে গিয়ে টিএসআই রফিককে জানান শহিদুল ইসলাম মন্ডল। তারপরও টিএসআই রফিক তাদের চাকরি দেবেন বলে আশস্ত করেন। ৬ ডিসেম্বর তার দুই ছেলেকে ডেকে টিএসআই রফিক লিখিত পরীক্ষা নেন। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় তারা বাড়ি চলে যান। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শহিদুল ইসলাম মন্ডলকে সদর ফাঁড়িতে ডেকে টিএসআই রফিক গালিগালাজ করেন এবং তার দ্ইু ছেলেকে চাকরি দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের দেওয়া ৩০ লাখ টাকা হয়েছে জানিয়ে ওই টাকা তাকে দিতে বলেন। অন্যথায় তার ২ একর ১০ শতক জমি দলিল করে দিতে বলেন। শহিদুল ইসলাম মন্ডল রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের ১২ মার্চ টিএসআই রফিকসহ দুই পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে যান। এ সময় শহিদুল ইসলাম মন্ডল এবং তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে অপহরণ করে যশোর সদর ফাঁড়িতে এনে আটকে রাখা হয়। ওইদিন রাত ১০ টার পরে টিএসআই রফিক দলিল লেখক আশকার হোসেনকে ফাঁড়িতে আনেন এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আসামি শফিকুল ইসলামের নামে দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন শহিদুল ইসলাম মন্ডলের কাছ থেকে। পরদিন তাদের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। ২০২০ সালে শফিকুল ইসলাম ওই জমি তার ভাই রফিকুল ইসলামের নামে দলিল করে দেন। এরপর থেকে তারা টিএসআই রফিক গরুর খামার করে জমি ভোগদখল করে আসাছিলেন। আসামি টিএসআই রফিক প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার সময় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকুলে আশায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।