ঝিনাইদহ পৌরসভার চেক জালিয়াতি: প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ থেকে॥ ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চানের সম্পদের উৎস নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছেন। পৌরসভার প্রায় কোটি টাকার চেক জালিয়াতি, হাট-বাজার ইজারার টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ ও আয়করের টাকা নয়ছয় করার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম। তিনি নিজেও বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যে তিনি বেশকিছু ফাইল, ভাউচার ও চেক বই যাচাই-বাছাই করার জন্য নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ৮৪ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান চাঁন স্টোর কিপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি প্রধান সহকারী ও পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হন। তিনি একই পৌরসভায় ২০ বছর যাবৎ কাজ করছেন। সাবেক সচিব আজমল হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন ও হিসাবরক্ষক মো. মকলেসুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে একের পর এক পৌরসভার ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে থাকেন।
কীভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যায় সে বিষয়ে নিয়মিত অ্যাকাউন্টস সেকশনে বসে এই চক্রের বৈঠক হতো। আর এভাবেই আসাদুজ্জামান চাঁন গড়ে তোলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড় আর কোটি কোটি টাকা। এদিকে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ায় কয়েক জায়গাই জমি ও তিনতলা বাড়ি, পাশাপাশি বাজার পাড়ায় জমি কিনে সাততলা বাড়ি। নির্মাণাধীন। এ ছাড়াও পাগলাকানাই পূজা মন্দিরের পাশে জমিসহ একটি বাড়ি ও পাগলাকানাই মোড়ে একটি বড় পুকুর কিনেছেন। কাঞ্চনপুর মসজিদের পাশে রয়েছে জমি। শহরের বিভিন্ন স্থানে তার নামে বেনামে একাধিক জমি, বাড়ি ও পৌর মার্কেটে কয়েকটি দোকানের সন্ধান মিলেছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি বাস ও ট্রাক। একইসঙ্গে হিসাবরক্ষক মকলেসুর রহমান ডিসি সাহেবের বাসভবনের পাশেই গড়েছে ৫ শতাংশ জমির ওপর ৩ তলা বাড়ি, কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটে দোকান, ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নামে বেনামে কিনেছেন কয়েকটি প্লট জমি ও গড়েছেন টাকার পাহাড়। এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চাঁনের বিরুদ্ধে গত ২০২১ সালের ১২ই আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে উপ-সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন তার দপ্তরের ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.২৭.০০১.১৪.৬৭৮ নং স্মারকে চিঠি দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু ৫ মাস পার হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং তাকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের একটি চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে মর্মে আসাদুজ্জামান চাঁন গণমাধ্যমকর্মীদের দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন। যে স্মারকে তিনি চিঠিটি দেখাচ্ছেন সেই একই স্মারকে ২০২১ সালের ২৭শে জুন পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু আসাদুজ্জামান চাঁনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও অন্যত্র বদলির চিঠি দেন। এখন কোন চিঠি জাল ও কোন চিঠি আসল তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আসাদুজ্জামান চাঁন বলেন, আমার পরিবার অনেক আগে থেকেই ধনবান ও সম্পদশালী। এই সম্পত্তি তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। তাছাড়া বাজারপাড়ার মধ্যে যে সুউচ্চ ভবন নির্মিত হচ্ছে তা ফ্ল্যাট বিক্রি করে অগ্রিম টাকায় বানানো হচ্ছে। তিনি পৌরসভার চেক জালিয়াতির বিষয়ে জানেন না বলেও জানান। তিনি বলেন, যে স্মারকে আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে ওই স্মারকটি সঠিক নয়।