জুলাইয়ে যমেক হাসপাতালের দরপত্র বর্ষার আগে ভবদহের ৩ নদী খনন

যশোরে জেলা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

0

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ আগামী অর্থ বছর থেকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শুরু হতে পারে। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় যশোর জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীতিতে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সে আলোকে জুলাইয়ে দরপত্র আহবান করা হতে পারে বলে সভায় অবহিত করেন।

সভায় আরও জানানো হয়, বর্ষার আগেই হরি, আপার ভদ্রা ও হরিহর নদীর ৭৩ কিলোমিটার খনন করা হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ খনন কাজের জন্য ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অভয়নগরে আমডাঙ্গা খাল খননের জন্য পৃথক ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয় যশোর জেলা পরিষদের শতকরা ৮০ ভাগ জমি বেদখল অবস্থায় রয়েছে। যুগের পর যুগ বেদখল অবস্থায় থাকা কিছু জমি বিক্রিও হয়ে গেছে। সে সব জমির কোনো কোনোটিতে ৬তলা পাকা ভবনও নির্মাণ করেছে দখলকারীরা। এ তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, হোটেল জাবির ইন্টার ন্যাশনালের পাশে ৮০ শতাংশ জমি গণপূর্ত দখলে রেখেছে। যতটুকু তাদের নথিতে আছে তাতে জেলা পরিষদের মোট জমির পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার শতক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়, ভবদহ সমস্যার কারণে গত বর্ষায় মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘর-বাড়ি জলে প্লাবিত হয়েছিল। আগামী বর্ষা আসার আগেই হরি তেলিগাতির ২০ কিলোমিটার, আপার ভদ্রার ১৮.৫ কিলোমিটার এবং হরিহর নদের ৩৫ কিলোমিটার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খনন করা হবে। এই ৩টি নদী খননে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী সাইট ভিজিট করেছে। তাছাড়া এলাকাবাসীর চাওয়া অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের জন্যে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমডাঙ্গাখালের সংস্কার হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ফলে খাল সংস্কার সহজ হবে, খাল সংস্কার হলে ভবদহের পানিও নিষ্কাশন সহজ হবে। ঈদের পর থেকে এ ব্যাপারে কাজ শুরু হতে পারে।

যশোর জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। যশোর কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও অফিস প্রধানরা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকান্ডের গতি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা, সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা ও অপপ্রচার রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও করণীয় দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাছাড়া বোরো মৌসুমের সেচ যন্ত্র চালু রাখার সুবিধার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে।

এ সময় খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলায় মজুদ সন্তোষজনক এবং রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও বিক্রি করা হচ্ছে । প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমিত আকারের রমজানে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ ডিম ও মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলা পরিষদ আরো জানায়, জেলা পরিষদের সম্পত্তি উদ্ধার ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাবনা পাওয়া। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে জেলা পরিষদের সব সম্পত্তি উদ্ধার হবে এবং তা কাজে লাগানো যাবে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ বিভিন্ন স্থানে ৫টি মার্কেট তৈরির কাজ করছে যা থেকে পরিষদের আয় বাড়াবে। বর্তমানে দেড়শো কোটি রাজস্ব ব্যয়ের প্রকল্পের মধ্য জেলা পরিষদ নিজ তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকার মতো ব্যয় করতে পারবে।

এ সময় পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ১৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল। এরমধ্যে জমা ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। খুব শিগগিরই মুজিব সড়ক থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত সড়কে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় জেলাপরিষদ ও পৌরসভার রাস্তা ফুটপাত ভাড়া দিয়ে দোকান বসানোরও সমালোচনা করা হয় সভায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, জেলাপরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালেলর তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিবুল আলম, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানর্জী, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।