জাল নোট প্রচলনে শীর্ষে যশোর, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মশালায় তথ্য

0

বি এম আসাদ ॥ যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মধ্যে জাল নোট প্রচলনের ক্ষেত্রে যশোর জেলা বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শনিবার সকালে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক ওয়ার্কশপ’-এ এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার উদ্যোগে এবং যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা।

কর্মশালায় জানানো হয়, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় যশোরে অপরাধীদের তৎপরতা বেশি। এছাড়া গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর ভিত্তিক একটি চক্র রেমিট্যান্স ভাঙানো ও দাদন ব্যবসার আড়ালে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ৫০০ কোটি টাকার জাল নোট দেশে প্রবেশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সচেতন না হলে যেকোনো নিরপরাধ ব্যক্তি জেল-জরিমানার শিকার হতে পারেন। কারণ, আইন অনুযায়ী জাল নোট বহনকারীই অপরাধী হিসেবে গণ্য হন।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জাল টাকা সংক্রান্ত মোট ৫৪৬টি ঘটনার মধ্যে ৫১৫টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে যশোর জেলা শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ১৩৭টি মামলা বিচারাধীন। এছাড়া সাতক্ষীরায় ৯০টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে ৭৩টি, কুষ্টিয়ায় ৬৯টি, বাগেরহাটে ৪১টি, গোপালগঞ্জে ৩৮টি, খুলনা জেলায় ২৪টি, চুয়াডাঙ্গায় ১৯টি, ঝিনাইদহে ১১টি, মাগুরায় ৮টি এবং নড়াইলে ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

কর্মশালায় আসল নোট চেনার উপায় শেখানো হয়। আলোচকরা আসল টাকা চেনার সহজ কিছু উপায় তুলে ধরেন। ১. রং পরিবর্তন: ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট আলোর বিপরীতে নাড়াচাড়া করলে নির্দিষ্ট কোণ থেকে রং পরিবর্তন হয়। জাল নোটে এটি হয় না। ২. জলছাপ: আলোর বিপরীতে ধরলে আসল নোটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সংবলিত জলছাপ স্পষ্ট দেখা যাবে। ৩. অসমতল ছাপা: আসল নোটের মান (১০০, ৫০০ বা ১০০০ অংকগুলো) হাতে ধরলে খসখসে বা উঁচু-নিচু অনুভূত হয়। ৪. নিরাপত্তা সুতা: নোটের নিরাপত্তা সুতাটি ছেঁড়া বা আলগা কি না তা পরীক্ষা করতে হবে।

সোনালী ব্যাংক কালেক্টরেট শাখার ম্যানেজার জাফরিন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মনজুর রহমান, রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম সাহাদ আলী, অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজার রোকন উদ্দিন এবং সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম আমিনুর রহমান। রিসোর্স পারসন হিসেবে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনার যুগ্ম পরিচালক মিজানুর রহমান।