মসজিদ কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে খাজুরায় যুবদল নেতা রুবেল খুন হন, ৩ জন আটক করে জানাল পুলিশ

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন শাখা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাসান (৩৯) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক তিনজন হলেন বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুর গ্রামের আব্দুর রউফ মোল্লার ছেলে মারুফ হোসেন (২৩) ও রাব্বি হোসেন (২০) এবং যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে আসিফ হোসেন (২০)।

আটকদের মধ্যে আসিফ হোসেন যশোরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় একটি মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুবেল হাসানকে হত্যা করা হয়। গত ১৩ জুলাই বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা এলাকার একটি তেলপাম্পের পাশে সড়কের ওপর তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশের দাবি, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আটক আসিফ হোসেন। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ছবি: লোকসমাজ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ডিবি পুলিশের এসআই মো. সালাউদ্দিন খান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফিরোজ হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে অভিযান চালান। সেখান থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মারুফ হোসেন ও রাব্বি হোসেনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাবাসপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসিফ হোসেনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঘারপাড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও খাজুরা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি বার্মিজ চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক মারুফ হোসেন ও রাব্বি হোসেনকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।