চৌগাছায় সাড়ে চার কোটি টাকায় খনন করা ভৈরবে পানি নেই

0

 

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় কিলোমিটার খননকৃত ভৈরব নদে ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানি নেই। কচুরিপানা বাসা বেঁধেছে নদের বুকে।

জানা য়ায়, উপজেলার তাহেরপুর থেকে উপজেলার পূর্ব সীমান্তের গ্রাম আড়পাড়া হয়ে মর্যাদ বাওড় ছুঁয়ে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা বুক চিরে ভৈরব চলে গেছে যশোর সদর উপজেলায়। তাহেরপুর থেকে আড়পাড়া পর্যন্ত এ নদের দৈর্ঘ্য ছয় কিলোমিটার। ভৈরব নদে ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ খননের জন্যে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকেল্পর আওতায় চৌগাছা উপজেলার ছয় কিলোমিটার খননের কাজ পায় এনএইচ-এমএসিস-এসএইউ ( জেভ ), মিশনপাড়া, পুরাতন কসবা, যশোর নামে একিট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ছয় কিলোমিটার কাজের চুক্তিমূল্য ছিল চার কোটি উনপঞ্চাশ লাখ ছেচল্লিশ হাজার সাতশো একষট্টি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদের দৈর্ঘ্য ছয় কিলোমিটার, প্রস্থ ৩২ মিটার এবং গড় গভীরতা ২.২৫ মিটার খনন করে দেয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ খনন কার্যক্রম শুরু করে ২০২০ সালে ১ মে কার্যক্রম শেষ হয়। কিন্তু সরকারের সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদ খনন প্রকেল্পর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে নদটি সেই মরা অবস্থাতেই রয়ে গেছে। নদের দুই পাড়ে কোন সীমানা পিলার স্থাপন না করার কারণে প্রভাবশালীরা নদ দখল করে নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নদ খনন যেখান থেক শুরু সেই হাকিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, নদ তো সঠিকভাবে চুক্তি অনুয়ায়ী খনন করা হয়নি যা কাটা হয়েছে তা হয়েছে দায়সারাভাবে। তিনি আরো বলেন, নদের খননকৃত মাটি নদের পাড়েই রাখা হয়েছে। যে মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবারো নদে গিয়ে পড়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত নদ ভরাট হচ্ছে। নদে পানিই নেই।

নদের পাড়ে অবিস্থত পুড়াহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালেয়র প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, খননের পর তো কোনদিন নদে পানি দেখতে পেলাম না।
পাতিবলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল বলেন, নদ কত টাকা দিয়ে কিভাবে খনন করা হয়েছে তা বলতে পারবো না। তবে নদে যে পানি নেই এটা বলতে পারবো।

আড়পাড়া গ্রামের মাস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদ খনন করা দেখে খুব ভালো লেগেছিল যে, নদে আবার পানি হবে। সেখানে ছোটবেলার মত মাছ ধরবো। কিন্তু সে আশা আর পূরণ হলো না। নদ খনন করা হলো। কিন্তু পানি এলো না।