চৌগাছায় গুড় মেলাতে দ্বিতীয় দিনেও ছিলো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গুড় মেলার দ্বিতীয় দিনেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়।  বৃহস্পতিবার সব বয়সের মানুষের সরব উপস্থিতিতে গুড় মেলা যেন মিলন মেলাতে পরিণত হয়। আগামী বছর থেকে গুড় মেলার সময় আরও বৃদ্ধির দাবি জানান মেলায় আগত অনেকে।
গতকাল সকাল থেকেই মেলায় আসতে থাকে সব বয়সের মানুষ।
মেলায় মানুষের এতটাই ভিড় ছিলো যে আয়োজক কমিটি উপজেলা প্রশাসনকে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে। মেলার প্রাণ গাছি ও খেজুরের গুড়ের ব্যাপক সমারোহ ছিলো দ্বিতীয় দিনেও। তবে গুড়ের এতটাই চাহিদা ছিলো যে, দুপুরের মধ্যে অনেকেরই গুড় বিক্রি শেষ হয়ে যায়। গুড় মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন শীতের পিঠা পুলি নিয়ে হাজির হন মেলাতে। এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরি পিঠা পুলি বিক্রি করে বেজায় আনন্দ পেয়েছেন।
কথা হয় উপজেলার উপজেলার কয়ারপাড়া গ্রামের গাছি তারেক গাজী, পাতিবিলা গ্রামের নজরুল ইসলামের সাথে। এসব গাছি জানান, গত দুই বছরের চেয়ে এবছর মেলায় মানুষের ব্যাপক ভিড় বেড়েছে। আমরা ক্রেতাদের হাতে গুড় দিয়ে পারছি না। এ ছাড়া মেলার সার্বিক পরিবেশ খুবই ভালো, এ ধরনের মেলার সময় বৃদ্ধি হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
হরেক রকমের পিঠা ও দেশি মুরগির মাংস নিয়ে স্টল দিয়েছেন চৌগাছার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের স্টলে বাড়তে থাকে ভিড়। এক সময় শুরু হয় ধুম বেচা কেনা। শিক্ষার্থী সাইমা ইসলাম বলেন, গুড় মেলাতে আমরা ব্যতিক্রম একটি স্টল দিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় মেলায় আগতদের কাছ হতে যথেষ্ঠ পরিমাণে আমরা সাড়া পেয়েছি। আমাদের তৈরি পিঠা পুলি খেয়ে মানুষ বেজায় মজা পাচ্ছেন।
সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান বলেন, আমার ছেলে মেয়েরা নতুন এই স্টল দেওয়ার মনস্থির করে, আমি তাদের সহযোগিতা করেছি, তাদের স্টলে ব্যাপক বেচাকেনা হচ্ছে।
দর্শনার্থী রাজু আহমেদ, মহিদুল ইসলাম, উম্মে সালমা, লিটন হোসেন বলেন, গুড়ের মেলাতে আসতে পেরে আমরা নিজেদেরকে ধন্য মনে করছি। ব্যতিক্রম এই মেলার আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ না দিলে নিজেদেরকে ছোট মনে হবে, কেননা এই মেলা দেশ তো বটেই দেশের বাইরেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মেলার সময় বৃদ্ধি করা হলে আরও ভালো হবে বলে তারা মনে করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা বলেন, খেজুরের গুড় জিআই পণ্যের তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম গুড় মেলা হচ্ছে। প্রথম দিকে কিছুটা ভাবনায় ছিলাম কেমন হবে মেলা, তবে মেলায় অংশ নেওয়া গাছি ও সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি আমাদের সেই ভাবনা দূর করেছে। সব মিলিয়ে গুড় মেলার দ্বিতীয় দিন সুন্দরভাবে পার হয়েছে।