চৌগাছায় কপোতাক্ষে সেতুর ফুটপাথের ছাদ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

0

 

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুর ফুটপাথের ছাদ ধসে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ঝুঁকির মধ্যে আছে মূল সেতু। সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার চার বছরের মধ্যে ফুটপাথ ভেঙে যাওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ঠদের দৃষ্টি কামনা করেছেন উপজেলার সচেতন মহল।
চৌগাছা পৌর সদরের পাশ দিয়ে প্রবহমান মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ। নদের পশ্চিম পাশে পৌরসভার একটি ওয়ার্ড, উপজেলার বৃহৎ তিনটি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অবস্থান। উপজেলা সদরে প্রবেশে সকলকেই এই নদ পার হতে হয়। একসময় খেয়া পারাপার হতেন মানুষ, এরপর আশির দশকে নদের ওপর নির্মিত হয় একটি বেইলি ব্রিজ। সময়ের ব্যবধানে সেটিও চলাচলের অনুপযোগী হলে নদের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে চৌগাছার সর্বমহল থেকে। একপর্যায় বর্তমান সরকারের সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর কিছু দিন পরেই শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সেতু বাস্তবায়ন এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল জিল্লুর করিম টিপু ও বাবু পাটোয়ারী। নির্মাণ কাজ শেষে প্রায় ৪ বছর আগে সেতুটি চলাচলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হলে এজনপদের মানুষের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।
পরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতুর যানচলাচলের জায়গা বাদে দুই ধারে নির্মাণ করা হয় ফুটপাথ। এই ফুটপাথ দিয়ে প্রতি দিনই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ শ শ মানুষ চলাচল করে। কিন্তু দু সপ্তাহ আগে সেতুর উত্তর পাশের মাঝ বরাবর ফুটপথের ছাদ ভেঙে যায়। প্রথম দিকে ভাঙার পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও দিন যত যাচ্ছে এর পরিধি বাড়ছে। এরফলে পথচারীদের বেশ ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতুর ফুটপাথ ভেঙে যাওয়া স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছেন, তা না হলে কয়েক বছর যেতে না যেতেই কেন ফুটপাথ ভেঙে পড়বে। আবার অনেকে বলছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের অবশ্যই এই কাজে গাফলতি ছিল সে কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাথের ঢালাই করা পাথর সিমেন্ট ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা স্থানে এসেই পথচারীরা মূল সেতুতে নেমে পড়ছেন, এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। কলেজ ছাত্রী তানিয়া সুলতানা, স্কুল ছাত্র রাজিব হাসান বলেন, ফুটপাথ ভেঙে যাওয়াতে সেতু পারাপারে আমরা ভয় পাচ্ছি, কারণ সেতু দিয়ে সব সময়ই যানবাহন চলাচল করে। সেতুর পশ্চিম পাশের বাসিন্দা সুমন হোসেন, আজিজুর রহমান বলেন, ফুটপাথের যেখানে ভেঙে গেছে ওই স্থান ঢালাই দেয়ার সময় সেভাবে রড ব্যবহার করা হয়নি। যার কারণে পায়ে হাঁটা মানুষের চাপ নেয়ার মত ক্ষমতা ফুটপাথের নেই, ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ফুটপাথের এই বেহালদশা হলে মূল সেতুতে কি হয়েছে তা নিয়ে সকলের মাঝেই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ঠদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর রহমান বলেন, সেতুর কাজটি করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, তাই উনারা ভাল বলতে পারবেন।
যশোরের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল বলেন, সেতুর ফুটপাথের ছাদ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি জানা ছিল না। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।