চৌগাছায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাউলী গ্রামের ইউপি সদস্য আলী কদরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শাপলা খাতুন। গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মের সাথে জড়িয়ে থাকা এই জনপ্রতিনিধি সরকার পরিবর্তনের পরও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়।

বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাপলা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ইউপি সদস্য আলী কদরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। ‘আমাদের ৭ বিঘা ধানের জমি চাষের জন্য একটি ট্রাক্টর সরকারি রাস্তা দিয়ে আলী কদরের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।

এ সময় আলী কদর ওই রাস্তাকে নিজের দাবি করে গতিরোধ করেন। তার নেতৃত্বে ইকবাল হোসেন, খাদেমুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী ও আদম আলীসহ ৭-৮ জন আমার স্বামী আব্দুস সালামকে মারধর শুরু করে।’

তিনি আরও জানান, স্বামীকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে শাপলার মাথায় কোপ দেয়, যাতে পরবর্তীতে ১৪টি সেলাই দিতে হয়। উদ্ধারে এগিয়ে আসা ভাইপো অমিত হাসানকে কুপিয়ে জখম করা হলে তার মাথায় ২৫টি সেলাই পড়ে। গ্রামবাসী উদ্ধারে এলে তাদেরকেও অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাপলা খাতুন দাবি করেন, ইউপি সদস্য আলী কদর অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে জরিমানা করায় তিনি শাপলার পরিবারকে তথ্যদাতা হিসেবে সন্দেহ করতে থাকেন। হামলার পর চৌগাছা থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

উল্টো অভিযোগ করা হয়েছে যে, আলী কদর ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছেন। বর্তমানে সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান শাপলা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে জোবাইদা খাতুন ও আরিফা খাতুনসহ হাউলী গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।