চৌগাছা উপজেলা পরিষদের বৈশাখী মঞ্চে ফিরেছে প্রাণ

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরের বৈশাখী মঞ্চ আবারো ফিরে পেয়েছে প্রাণ। দীর্ঘদিন পরে মঞ্চের মেঝেতে শিশু কিশোরদের কলতানে মুখর এলাকা। আর এই প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য অনন্য অবদান রেখেছেন চিত্র শিল্পী আবেদুর রহমান। শিশুরা আবারো রং তুলি নিয়ে মনের আনন্দে খাতার পৃষ্ঠা ভরে তুলবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিখবে চিত্রাংকন তাই অভিভাবকরাও খুশি।

বহু বছর আগে চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিনোদনের লক্ষ্যে নির্মিত হয় একটি মঞ্চ, যার নামকরণ করা হয় বৈশাখী মঞ্চ। মঞ্চে উপজেলার সব ধরনের অনুষ্ঠান, বিশেষ করে সঙ্গীতানুষ্ঠান বেশি হয়। বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হলেও মাসের বেশির ভাগ সময় মঞ্চ থাকে অলস পড়ে। তাতে করে সেখানে ধুলা বালি পড়ে এবং মানুষের চলাচল না থাকায় মঞ্চ এলাকায় সৃষ্টি হয় নোংরা পরিবেশ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে সাবেক চিত্র শিল্পী আছাদুজ্জমান সেখানে ৩ জন শিশুকে নিয়ে শুরু করেন চিত্রাংকন।

ধীরে ধীরে দিন যায় মাস আসে বৈশাখী মঞ্চে শিশু কিশোরদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। চিত্র শিল্পি আছাদুজ্জামান আছাদ সপ্তাহের শুক্রবার শিশুদের শেখাতেন চিত্রাংকন। কিন্তু হঠাৎ এই গুণী শিল্পির মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়ে বৈশাখী মঞ্চ। শুক্রবার এলে আর শিশু কিশোরদের দেখা যায় না মঞ্চে, হয়না কোন চিত্রাংকন বা আবৃত্তি। এমন পরিস্থিতিতে চৌগাছার সন্তান আছাদুজ্জামান আছাদের শিষ্য ঢাকা চারুকলার শিক্ষার্থী আবেদুর রহমান আবার হাল ধরেন বৈশাখী মঞ্চের।

শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় অন্তত ২০ জন শিশু কিশোরকে নিয়ে বৈশাখী মঞ্চের সেই মেঝেতে বসে যেখানে শিল্পী আছাদ শিশুদের আর্ট শেখাতেন সেখানেই শুরু করেছেন কর্মযজ্ঞ। তার এমন কর্মে খুশি শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে, চিত্র শিল্পি আবেদুর রহমান শিশুদের নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। রং আর তুলিতে কীভাবে একজন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নদ নদী বা একটি দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে হয় তা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবে শেখাচ্ছেন।

আর্ট শিখতে আসা শিশু শিক্ষার্থী মাধুরিমা বলেন, আমাদের শিক্ষক খুবই সুন্দরভাবে শেখাচ্ছেন। আমরা এখান থেকে আর্ট শিখে যে কোন জায়গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবো। অভিভাবক আনিছুর রহমান আনিস, দেবরাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, জায়গাটিতে মরহুম আছাদুজ্জামান শিশুদের আর্ট শেখাতেন। শুধু চৌগাছা পৌর সদর না বিভিন্ন এলাকা হতে শিশুরা সপ্তাহে শুক্রবার এখানে আর্ট শিখতে আসতো। তার মৃত্যুতে শিশুরা এমনকি অভিভাবকরা বেশ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান। কিন্তু আবেদুর রহমানের এগিয়ে আসাতে বৈশাখী মঞ্চ প্রাণ ফিরে পেয়েছে, শিশুরা পাচ্ছে রং তুলি নিয়ে খেলতে, সকলেই খুশি।

চিত্র শিল্পী আবেদুর রহমান বলেন, মরহুম আছাদুজ্জামান আছাদ আমার শিক্ষা গুরু ছিলেন। এরপর আমি ঢাকা চারুকলাতে ভর্তি হই এবং সেখানে শিক্ষাজীবন শেষ করে ঢাকায় একটি আর্ট কলেজে চাকরি করতাম।

শিক্ষা গুরুর মৃত্যু এবং এলাকার টানে চলে আসি বাড়িতে। বৈশাখী মঞ্চে শিশুরা মরহুম আছাদুজ্জামানের নিকট যেভাবে চিত্রাংকন শিখতো তার মৃত্যুতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। মূলত সেই ভাবনা থেকে শুক্রবার সকালে শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টা হতে তাদের চিত্রাংকন শেখানো হবে। প্রথম দিনেই অন্তত ২০ জন শিশু কিশোর এসেছে, ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়বে।