চুয়াডাঙ্গায় চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক ৬

0

 

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা॥ চুয়াডাঙ্গা পুলিশ ৯টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোরচক্রের ৬ জনকে আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। রবিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৫ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার কার্যালয় মিলনায়তনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের সামনে এ ঘটনা তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চুরি হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে জড়িত আছে একশ্রেণির সংঘবদ্ধ চক্র। তারা চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলায় এ কার্যকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ, পরিদর্শক (তদন্ত) একরামুল হোসাইন, এসআই শেখ হাদীউজ্জামান,এসআই লিটন কুমার মন্ডলসহ একদল পুলিশ রবিবার রাতে আলমডাঙ্গা থানার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা শহরের সাদা ব্রিজের পাশে পশুহাট এলাকা থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুর স্কুলপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে রাসেল (৩২) ও একই এলাকার মারজুল রহমানের ছেলে সোহেল। আটক দুজনের স্বীকারোক্তিতে ওই দিন রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ওই এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আব্বাস উদ্দিনকে (৪২) আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আব্বাসের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১২ টার দিকে একই উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া কুরর্শা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১টি চোরাই মোটরসাইকেরসহ একই এলাকার মরহুম মসলেম মন্ডলের ছেলে জমির আলীকে (৩৫) আটক করা হয়। রাত দেড়টার দিকে আলমডাঙ্গার উদয়পুর গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামের (৩৭) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়। রাত ২ টার দিকে আলমডাঙ্গার কুমারী গ্রামের গাংপাড়ায় আব্দুল মজিদের ছেলে মারুফ হোসেনের (২৩) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে নিয়ে এসে নিজেদের হেফাজতে রাখে এবং সময় সুযোগ মত বিক্রি করে। আটকদের মামলাসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯টি মোটরসাইকেল আলমডাঙ্গা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রকৃত মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে মোটরসাইকেল তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।