চুয়াডাঙ্গার কৃষ্ণপুর গ্রামে তিন ফসলী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

0

রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মাঠে তিন ফসলী জমিতে একটি বিদেশী কোম্পানী সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন করেছে। রবিবার বিকালে এলাকার কৃষকেরা মানববন্ধন করেছেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ প্লান্ট নির্মাণে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়া হচ্ছে।
কৃষ্ণপুর গ্রামবাসী জানায়, তাদের গ্রামের মাঠের জমি খাদ্য উৎপাদনে সমৃদ্ধশালী। এ মাঠের জমিতে প্রত্যেকটি ফসলই ফলে। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে সাইকিট এ্যানার্জি লিমিটেড নামের একটি বিদেশী কোম্পানী এলাকার কিছু ক্ষমতাসীন দলের কিছু রাজনৈতিক দালালদের সহযোগীতায় এলাকার কৃষকদের গোপন করে উপজেলা কৃষি বিভাগ দিয়ে একটি জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদন নেই যে, ওই মাঠে কোন ফসল ফলে না। সে সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের এমন প্রতিবেদনের ফলে কোম্পানীর অপতৎপরতা আরো বেড়ে যায়। ফলে তারা দফায় দফায় মাঠটি পরিদর্শন করতে থাকে। এ ঘটনাটিতে কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। তিন ফসলী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন তারা। এতে কোম্পানীর তৎপরতা থেমে যায়। এলাকার ক্ষমতাসীন দলের কিছু রাজনৈতিক দালাল কোম্পানীটির নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কৃষকদের সেখান থেকে উৎখাত করে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণে তৎপর হয়ে উঠেছেন। কৃষকদের দাবী, সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ হলে শুধু কৃষি জমিই কমবে তা নয় এলাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ফলে এলাকায় একদিকে খাদ্য ঘাটতি হবে অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়বে।
সাবেক ইউপি সদস্য জেহের আলী, ঠান্ডু,শওকত আলীসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন,এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিজেদের লাভের কথা চিন্তা করে আমাদের একমাত্র ফসলী মাঠ, যেখানে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন হয়, সেই মাঠে ফসল হয়না দেখিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ করা হলে এলাকায় কৃষি জমি কমে যাবে। দালালরা যুক্তি দেখাচ্ছে যে, প্লান্ট নির্মাণ হলে ১০০ থেকে ১৫০ জনের কর্মসংস্থান হবে। তাহলে আর ৫-৬ হাজার কৃষক ও তাদের পরিবার পরিজনের কি হবে?
সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের জন্য শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে কৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসীরর সঙ্গে মতবিনিময় করতে আসেন কোম্পানীর কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকির হোসেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, সাবেক জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ অমল,আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর মাস্টার, রাজ্জাক শাহ, রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তারা বলেন, জমি পাওয়া গেলে প্লান্ট নির্মাণ হবে, না পেলে হবে না। কৃষকদের সিদ্ধান্ত যদি জমি না দেয়ার পক্ষে থাকে তাহলে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ করা যাবে না।
এ ব্যাপারে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ জানান, আমি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ছিলাম,আমার বক্তব্যে আমি বলেছি, এলাকাবাসী না চাইলে প্লান্ট হবে না। আমি এলাকাবাসীর মতামতের বাইরে যেতে পারি না।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন,কৃষ্ণপুর মাঠের জমি আবাদী। সেখানে সব ধরনের আবাদ হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ প্লান্ট হওয়া না হওয়ার বিষয়টি কৃষি বিভাগের নয়। কৃষকরা জমি দিলে হবে,না দিলে হবে না। তবে আমরা আবারও ২৪ আগস্ট সোমবার একটি দল জমিটিতে জরিপ চালাবে।