গোলের পর কেন কেঁদেছেন মেসি

0
আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মাঠে লিওনেল মেসির কান্নার কারণ ফুটবলীয় নয়, বরং ব্যক্তিগত।। ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের তখন ১৭ মিনিট। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া জোরালো শটটি যখন প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাল, তখন গোটা দুনিয়ার আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে উঠেছেন। কিন্তু গ্যালারি ও টিভি পর্দার দর্শকদের সেই হাসির আবহ তৈরীর মুহূর্তে ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ল এক ভিন্ন দৃশ্য—চোখে আনন্দাশ্রু নিয়ে কাঁদছেন ফুটবল জাদুকর। বিশ্বমঞ্চে নিজের শেষ যাত্রার প্রথম ম্যাচেই গোল করার আনন্দ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প? ম্যাচশেষে মিক্সড জোনে এসে সেই কান্নার পেছনের আসল রহস্য পরিষ্কার করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজেই।

হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর মাঠ ছাড়া মেসি খেলা শেষে কান্না প্রসঙ্গে বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরাবরের মতোই তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।’

ম্যাচের কৌশল ও আলজেরিয়ার শক্তিমত্তা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। ওদের দলে খুব ভালো, গতিময় এবং আক্রমণাত্মক কিছু খেলোয়াড় আছে। আমরা ওদের পায়ে বল দিলে ওরা সুযোগ তৈরি করতে পারত, তবে বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকার সময়ও আমরা পজিশন ধরে রেখে ভালো অবস্থায় ছিলাম। সৌভাগ্যবশত আমরা শুরুতেই লিড নিতে পেরেছিলাম এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি, যদিও বল পজিশন ধরে রাখার চেনা ছন্দে আমরা পুরো ম্যাচটি খেলিনি।’

ম্যাচের প্রথমার্ধের পুরোটা জুড়েই ছিল মেসির রাজত্ব। খেলার মাত্র পাঁচ মিনিটেই একবার আলজেরিয়ার বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হলেও সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় মুহূর্তেই সেই উদ্‌যাপন থেমে যায়। এরপর ম্যাচে বাতিল হয় আলজেরিয়ারও একটি গোল। সেই কঠিন সময় পার করে ১৭ মিনিটে প্রথম বৈধ গোলটি পান তিনি। প্রথমার্ধের সেই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে মেসি বলেন, ‘কিছুটা কঠিন ছিল (প্রথমার্ধ)। তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অন্যরকম—এটাই খুব স্বাভাবিক। যেকোনো টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলো সব সময়ই কঠিন হয়। গত বিশ্বকাপের (প্রথম ম্যাচের) অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল। আর এবারের বিশ্বকাপে এটা স্পষ্ট যে কেউ কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না।’