খুলনায় বিএনপির ত্রাণ সহায়তা কমিটি গঠন সভায় বক্তারা : প্রকৃতিক দুর্যোগ এলেই শাসকদলের কপাল খোলে

0

খুলনা ব্যুরো॥ ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডব থেকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে খুলনা মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, খুলনা অঞ্চলে প্রকৃতিক দুর্যোগ আসলেই শাসকদলের কপাল খোলে, তাদের লুটপাটের কপাট খুলে যায়। আওয়ামী সরকার জনগণের জন্যে কাজ করে না, তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে। দাকোপ-বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা-কয়রার মানুষ ১৫ বছর ধরে ত্রাণ চাই না,চাই টেকসই বেঁড়িবাধ-এ দাবি করে আসছে। কিন্তু সরকার বরাবরই জনগণের দাবি উপেক্ষা করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের নামে করছে লুটপাট।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি জরুরি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার আগে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবার না দেওয়ায় এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা না দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা আরো বলেন, খুলনার উপকূলীয় দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা উপজেলায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গবাদি পশুসহ অসংখ্য গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ সরকার ওইসব এলাকার মানুষের পাশে না দাঁড়ানোয় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা থেকে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সারাদেশে ১৬ জনের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দুর্যোগ কবলিত মানুষ ব্যথা-বেদনা ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে নব উদ্যমে আবার সবকিছু গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সভায় মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনাকে আহবায়ক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খানকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের ত্রাণ সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়। ত্রাণ সহায়তা কমিটি আজ (বুধবার) থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, আবু হোসেন বাবু, খান জুলফিকার আলী জুলু, সাইফুর রহমান মিন্টু, মোল্লা খায়রূল ইসলাম, মো. রকিব মল্লিক, মোস্তফাউল বারী লাভলু, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, শামীম কবীর, একরামুল হক হেলাল, আশরাফুল আলম খান, মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, এনামুল হক স্বজল, কে এম হুমায়ন কবির, মুরশিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শেখ ইমাম হোসেন,মোজাফফর হোসেন, চৌধুরী কাওসার আলী, জহর মীর, আফসার উদ্দিন, মুর্শিদুর রহমান লিটন, খন্দকার ফারুক হোসেন, মিজানুর রহমান মিলটন প্রমুখ।