খুলনায় পিতৃপরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

0

 

জামাল হোসেন,খুলনা॥ খুলনা নগরীতে চালক মাহিন্দ্রার মধ্যে গৃহধূকে ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এখন পিতৃপরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট। ধর্ষক সন্তানের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করায় ডিএনএ পরীক্ষার পয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যে কারণে পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হতে আদালতের নির্দেশে নবজাতক, গর্ভধারিনী ও ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ১৬ ও ১৭ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় ফরেনসিক ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে এ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যা ন্যশনাল ফরেন্সিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতে চলমান ধর্ষণ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী বিধান দাস। তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু মামলার একমাত্র আসামি তৌহিদুর রহমান ওই সন্তানের পিতৃপরিচয় অস্বীকার করেছে। এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হতে আদালতের নির্দেশে সন্তান, মা এবং সম্ভাব্য পিতার ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ফলাফল পেলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতার আইনি সমাধান হবে।
আসামি তৌহিদুর রহমান খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের (৯নং ওয়ার্ড পংকোজিনি বসু রোড) শফিউল ইসলামের ছেলে। তিনি একজন মাহিন্দ্রা চালক। তার মাহিন্দ্রায় ওই নারী যাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরের ১১ আগস্ট ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারী নিজেই। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এরআগে গত ২৬ জুলাই সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের আদেশ দেন খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২নং আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. রফিকুল ইসলাম।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, বাদীর সন্তানের বায়োলোজিক্যাল প্যারেন্টস নির্ণয়ার্থে তথা বায়োলজিক্যাল ফাদার আসামি মো. তৌহিদুর রহমান (২৬) কিনা তা নির্ণয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রার্থনা আদালত মঞ্জুর করেছেন। সে অনুযায়ী বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে গত ১৬ আগস্ট নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্ম দেয়া ওই নারী এ প্রতিবেদককে বলেন, আসামি তৌহিদুর রহমানই তার সন্তানের পিতা। এতে কোন রকম সন্দেহের অবকাশ নেই। এ কারণে তিনি ডিএনএ পরীক্ষা না করাতে তাকে বার বার চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুলাই মামলার হাজিরা দিয়ে আদালতে বারান্দায় বের হলে আসামি তৌহিদুর রহমান মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরও করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আটক করে রাখেন। এ ঘটনায় ওই দিনই তিনি খুলনা থানায় আসামি তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারন ডায়েরি হয়।
গতবছর করোনার কারণে লকডাউন চলাকালে ফুলতলা থেকে চিকিৎসার জন্য ওই নারী মাহিন্দ্রায় চড়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসা শেষে একই মহিন্দ্রায় বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে গাড়ি রেখে পদ্মা ফেলে দিয়ে সড়কের উপরেই তাকে ধর্ষণ করেন চালক তৌহিদুর রহমান। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ভিডিও ধারন করেন, যা প্রচারের ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। যে কারণে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। সম্প্রতি তার একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।