খুলনায় কাঙ্খিত বৃষ্টিতে চাষির মুখে হাসি,ব্যস্ততা আমন চাষে

0

মো. জামাল হোসেন, খুলনা ॥ জুন-জুলাই পার হওয়ার পর চলতি মাসে দেখা দিলো চাতকের মতো কাঙ্খিত বর্ষার ফোটা। এ কারণে এখন বীজতলাসহ আমন রোপনের জমি প্রস্তুত করছেন কৃষক। তাদের মুখে ফুটেছে হাসি।
হঠাৎ নিরাশার আঁধার কেটে, দেখা দিল আশার আলো। সমুদ্র সৃষ্ট নিম্ন চাপের প্রভাবে গত ১১ আগস্ট রাত হতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, মাঝারি ও হালকা বৃষ্টি হতাশাগ্রস্ত প্রান্তিক চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। বর্ষার ফোটা নামা মাত্রই কৃষকেরা অনেকটাই শঙ্কা ও চিন্তামুক্ত হয়েছেন আমন চাষ ব্যাহত হওয়া নিয়ে। কয়েকদিনের টানা বর্ষায় আমন চাষের জমিতে জমেছে পানি, কেটেছে পানির সাময়িক হাকাকার। যে কারণে কেবল আমন চাষ নয় বরং যে সকল কৃষক পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছিলেন না তারাও বেশ স্বস্তিতে। তাই সৃষ্ট নিম্ন চাপের প্রভাবে কয়েকদিনের কাঙ্খিত বৃষ্টির ফলে এখন আমন চাষ আর পাট কাটাসহ পাটের জাগ ঘিরে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে চলছে মহাযজ্ঞ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত প্রতিবছর ১৬ জুলাই হতে ১৫ অক্টোরব পর্যন্ত খরিপ-২ অর্থাৎ রোপা আমন চাষের মৌসুম এবং ১৬ অক্টোবর হতে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রবি মৌসুম হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে খুলনায় ১৬ জুলাই হতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খরিপ-২ বা রোপা আমনের চাষযোগ্য ফসল কেটে উঠতে সময় লাগে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের সূত্র জানায়, এ অঞ্চলের ৪টি জেলার সর্বমোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৩৩ হেক্টর। যার মধ্যে খুলনায় জেলার মেট্রোসহ বাকি উপজেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমান ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮১ হেক্টর, বাগেরহাটের জেলায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর জমি, সাতক্ষীরা জেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ হেক্টর ও নড়াইল জেলায় ৭৮ হাজার ৫৪৯ হেক্টর।
চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলার রোপা আমন (হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের) বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৩৫২ হেক্টর। অপরদিকে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলার রোপা আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৯ হাজার ১১০ হেক্টর। একই বছরে খুলনাঞ্চলের ৪ জেলার রোপা আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬৫ হেক্টর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টির জন্য আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে তারা যে শঙ্কায় ছিলেন গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে সে শঙ্কা কেটে গেছে। জেলার আমন আবাদযোগ্য জমির অগ্রগতি ভালো। চলছে আমন রোপণের কর্মযজ্ঞ।
কৃষকরা বলছেন, সাধারণত আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আমন ধানের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। কিন্তু এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় তারা আমন চাষাবাদ নিয়ে দুর্ভোগে পড়লেও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়াতে বোরিংয়ের মাধ্যমে পানি এনে বীজতলা প্রস্তুত করতে হয়েছে। কিন্তু এখন ক্ষেতে পর্যান্ত পানি থাকায় তারা আনন্দে পাতো উত্তোলনসহ চারা বপন করছেন।
ডুমুরিয়ার শলুয়ার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘কিছুদিন আগে পানি না থাকায় বীজতলা প্রায় নষ্ট হতে চলছিল। আল্লাহ রহমত করছেন, বৃষ্টির কারণে এখন আর পানির অভাব নেই। তবে আরো বৃষ্টি দরকার। কারণ চারা বপনের জন্য যে পানির দরকার, তা ক্ষেতে আছে। তবে চারা বড় হয়ে উঠলে সামনে আবারো পানির প্রয়োজন হবে। ’
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুস সামাদ জানান, ‘দিঘলিয়া উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চাষাবাদ হয়ে থাকে। তার বিপরীতে ইতিমধ্যে আমরা প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপন কার্য সম্পন্ন করেছি। কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো।’ তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পানির জন্য কৃষক যেভাবে হাহাকার করছিল, গেল কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষক আমন চাষে বেশ স্বস্তিবোধ করছেন। নিচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকের জমিতে বেশ পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সমগ্র উপজেলাজুড়ে এখন আমন আবাদের কর্মযজ্ঞ চলছে।