কালীগঞ্জে গৃহবধূকে শিকলে আটকে নির্যাতন

0

 

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা॥ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পায়ে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ রেখে দুইদিন আটকে তানিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূ ও তার পিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার বাদেডিহী গ্রামে।

অভিযুক্ত স্বামী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার বাদেডিহী গ্রামের ট্রাক চালক সোহেল রানা, তার মা মাহমুদা বেগম ও বোন ননদ রুমি বেগম। গৃহবধূ তানিয়া খাতুন একই উপজেলার মঙ্গলপৈতা গ্রামের রিপন
গাজির মেয়ে। পারিবারিকভাবে আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ৫ বছর ও ৩ মাসের দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গৃহবধূর পিতা রিপন গাজি জানান, বিয়ের পর থেকে জামাই সোহেল রানা তার মেয়েকে প্রায়ই যৌতুকের জন্যে মারধর করতো। যে কারণে আমার মেয়ে বেশির ভাগ সময় আমার বাড়িতেই থাকে। প্রায় এক মাস হলো মেয়েকে জামাই নিয়ে গেছে। ৬ জানুয়ারি সকালে তানিয়াকে মারধর করে পায়ে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে ৭ জানুয়ারি সকালে জামাই বাড়ি আসি। সেখানে এসে জামাই সোহেল রানার কাছে ঘটনা জানতে চাই। এ সময় উত্তেজিত জামাই আমাকেও মারধর করে। এরপর ধারালো দা দিয়ে আমার পায়ে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরিস্থিত খারাপ দেখে আমি স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিই। পুলিশ বেলা ১১টার দিকে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নির্যাতিত গৃহবধূ তানিয়া জানান, বিয়ের থেকে আমার স্বামী আমাকে মারপিট করে। দ্বিতীয় মেয়ে গর্ভে আসার পর আমাকে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ২৭ দিন আগে আমাকে বাড়ি নিয়ে আসে। গত সোমবার আমাকে শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ মিলে মারধর করে। এরপর আমাকে পায়ে শিকল দিয়ে তাতে তালা মেরে আটকে রাখে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে মেয়ে ও পিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন গাজি স্বামী সোহেল রানা, শাশুড়ি মাহমুদা খাতুন ও ননদ রুমি বেগমের নামে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।