উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদে আশান্বিত যশোরের কৃষক

0

আকরামুজ্জামান ॥ দেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার চার ভাগের তিন ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই আমদানি নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসাণ অধিদপ্তর কৃষক পর্যায়ে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন তেল জাতীয় ফসল চাষের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের কৃষকরা বারি-১৪ জাতের একটি উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা পরীক্ষামূলক আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে কৃষকরা প্রতিবছর মাঠে নানা জাতের সরিষার আবাদ করে থাকেন। এ বছর যশোর জেলায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। তারপরও আবাদকৃত এই জমি থেকে প্রাপ্ত সরিষায় যে তেল পাওয়া যায় তা পর্যাপ্ত নয়। তাই ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে ২০২০ সালের জুন মাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক একটি প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের আওতায় যশোরের একমাত্র বাঘারপাড়া উপজেলা বাদে ৭ উপজেলায় উন্নত জাতের বারি-১৪ সরিষা নামের একটি উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল তেলজাতীয় ফসলের পরীক্ষামূলক চাষ করে ব্যাপক সফল হয়েছেন কৃষক। কৃষকরা জানান, সাধারণত দেশে প্রচলিত যেসব জাতের সরিষা চাষ হয় তার অপেক্ষা বারি-১৪ জাতের এ সরিষার ফলন কয়েকগুন বেশি। এছাড়া এ জাতের সরিষা চাষে কোনো সেচ দেওয়া লাগে না। অনাবাদী পতিত জমিতেই চাষ করা সম্ভব। যেকারণে জেলার কৃষক এখন বারি-১৪ জাতের এ সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন।
তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্পের যশোর অঞ্চলের মনিটরিং অফিসার হীরক কুমার সরকার বলেন, আমাদের দেশের চাষিরা এক সময় প্রচুর পরিমাণ জমিতে রবি ফসল করতেন। রবি ফসলের মধ্যে বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলো তেল জাতীয় ফসল। তবে ধান-সবজিসহ অন্য ফসলের কারণে কৃষক তেল জাতীয় ফসলের চাষ থেকে কিছুটা সরে আসে। একারণে দেশের ভোজ্যতেলের বড় একটা ঘাটতি থেকে যায়। এ অবস্থায় আমরা কৃষকদেরকে অন্য ফসলের পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাত বাছাইয়ে সহযোগিতা করছি। বারি-১৪ জাতের এ সরিষা জাতটি ঠিকই এমন একটি জাত। তিনি বলেন, বারি-১৪ জাতের এ সরিষার জাতটির জীবন ৭০ থেকে ৮০ দিন। যা সাধারণ সরিষা জাতের চেয়ে অনেক কম। অন্যান্য জাতের সরিষার চেয়ে এর ফলন প্রায় তিন গুন বেশি। চাষ স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় এই জাতের সরিষা আবাদ করে চাষি সহজেই আবার একই ক্ষেতে বোরো আবাদ করতে পারেন। একারণে চাষি আমন চাষের পরপরই এ সরিষা আবাদে নেমে পড়েন। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, সরিষার এ জাতটি চাষে চাষি পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চাষিরা বেশ খুশি জাতটি পেয়ে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক চাষে তারা ব্যাপক খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষক পর্যায়ে সাড়া দেখে মনে হচ্ছে আগামীতে এ জাতের সরিষা জেলার অন্যান্য উপজেলাতে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হবে।
কেশবপুর সাঁগরদাড়ির ধর্মপুর মাঠের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের এলাকা অনেকটা জলাবদ্ধ ও বন্যাকবলিত এলাকা। প্রতিবছর এখানকার বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী থাকে। এ বছর আমরা পরীক্ষামূলকভাবে বারি-১৪ সরিষা আবাদ করে বেশ সফল হয়েছি। এ জাতটি সরিষার অন্য জাতের ফলন বেশি। পাশাপাশি রোগবালাই মুক্ত। একারণে আমরা আগামীতে এ জাতের সরিষা আবাদ বেশি বেশি জমিতে চাষ করবো বলে চিন্তা করছি। বারি-১৪ জাতের এ সরিষার জাতটি কৃষক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ যশোরের কর্মকর্তারা।