ঈদের ছুটির পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বেনাপোলে

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর)সংবাদদাতা ॥ পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল দিয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। পণ্য খালাস ও বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই বন্দর এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মব্যস্ততা ফিরে আসে।

এরআগে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আলোচনার ভিত্তিতে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাতদিন এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমস ও পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।

কাজের প্রথম দিনেই বন্দর ও কাস্টমস হাউসে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

বেনাপোল বন্দরের তথ্য মতে, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০টি ভারতীয় ট্রাকে পণ্য আমদানি হয়েছে ও ৪৫টি রপ্তানিমুখি ট্রাক বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল বন্দর অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমঝোতায় ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। ১ জুন সকাল থেকে আবারও স্বাভাবিক নিয়মে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। ছুটির সময়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা নিজ নিজ এলাকায় থাকায় পণ্য ছাড়ের চাপ ছিল না। তবে সোমবার থেকে পুরোদমে কাজ চলায় বন্দরে আবার গতি ফিরেছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির সময়ে বন্দর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী, আনসার সদস্য ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের সার্বক্ষণিক টহলের কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ১ জুন থেকে বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দ্রুত সেবা দিতে ও জটলা কমাতে বন্দরের প্রশাসনিক ও ট্রাফিক বিভাগ তৎপর রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও যাত্রী যাতায়াতের বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, ছুটির পুরোটা সময় বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ ডিউটি থাকায় কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ছুটি শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ঈদের সাতদিন পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি থাকলেও ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুত রাখায় যাত্রীদের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

দীর্ঘ সাত দিন বন্ধ থাকায় যে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত নিরসন করতে কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোমবার সকাল থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।