আস্বাভাবিক বৃষ্টিতে আমনের ফলন কম

0

 

আকরামুজ্জামান ॥ যশোর সদর উপজেলার ইছালী এলাকার চাষি হাদিউজ্জামান মিলন আমন ধান ঝাড়াই মাড়াই শেষে হতাশ। প্রত্যাশার চেয়েও প্রতি বিঘাতে জমিতে ৭/৮ মণ ধান কম পেয়েছেন তিনি। ধানে লাভের পরিবর্তে লোকসানের শঙ্কা করছেন এ কৃষক। হাদিউজ্জামান মিলনের মত এলাকার অধিকাংশ চাষির জানিয়েছেন এ বছর আমন ধানের অস্বাভাবিক ফলন বিপর্যয় হয়েছে। আগে যেখানে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়া যেতো, এবছর সেখানে ধান পাওয়া যাচ্ছে ১২ থেকে ১৮ মণ।
ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কারণে অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে ফলন কম হয়েছে। তবে উঁচু জমিতে ফলন আগের মতই হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর যশোর জেলায় সর্বোচ্চ পরিমাণ রোপা আমন চাষ হয়েছে । সেখানে ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরপর রয়েছে ঝিনাইদহ। সেখানে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮৮ হেক্টর। এছাড়া মাগুরায় ৬২ হাজার ২১৬, কুষ্টিয়ায় ৮৮ হাজার ৯২০, চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ হাজার ৭১০ এবং মেহেরপুরে ২৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ২৫৮ হেক্টরেরও বেশি জমি আমন চাষের আওতায় এসেছে। ১৬ লাখ টন ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক। এবার এ অঞ্চলে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ দশমিক ৪৭১ টন ধান উৎপাদন হবে, যা গত মৌসুমে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ টন। চলতি মৌসুমে কৃষি অঞ্চলে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬৩৮ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শেষমেষ ফলন কম হওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাছান আলী বলেন, এ বছর আমন মৌসুমে অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যশোরাঞ্চলে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিকাংশ নিচু জমির ধান ক্ষেত তলিয়ে যায়। যে কারণে জেলার ২৭১ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি নিচু জমিতে যে ধান ক্ষেত ছিলো তাতে বাল কম হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে উচু জমিতে ঠিকই ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জেলার বাঘারপাড়া এলাকার শেখের বাতান গ্রামের আবু বকর বলেন, গত কয়েক বছরে আমন চাষ সেচ নির্ভর হয়ে পড়ে। তবে এ বছর পুরো মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেচ খরচ ছিলো না বললেও চলে। রোগ-বালাইও তেমন ছিলে ানা কিন্তু ধান কেটে ঘরে তোলার সময় দেখা যাচ্ছে ফলন একেবারেই কম। একদিকে ধানের দানা যেমন কম হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রচুর পরিমাণ চিটা দেখা যাচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ মণ ধান কম হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে ফলন কম হলেও বাজারে কাঙ্খিত দাম নেই বলে কৃষক অভিযোগ করেন। একই উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, বাজারে এই মূহুর্তে প্রতিমণ গুটি স্বর্ণা ধান ১৩শ থেকে ১৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, একমণ ধান যদি ১৬শ থেকে ১৮শ টাকা হলে কিছুটা উপকার হতো। কারণ আমন আবাদ দিয়ে সামনে বোরো আবাদের খরচ মেটাতে হয়।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মো. আবু তালহা বলেন, আমনের ফলন বিপর্যয় হয়েছে বলা যাবে না। দেশের অন্যান্য জেলায় অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারণে আমনের ফলন বিপর্যয় হলেও এ জেলায় তেমন পরিস্থিতি হয়নি। আশা করা যায় সামনে বোরো চাষের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হবেন।