আর্জেন্টিনার ম্যাচে আইশোস্পিডের ওপর বর্ণবাদী মন্তব্য
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একাধিক ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশোস্পিড। ছবি : রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক, লোকসমাজ : যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া তারকা আইশোস্পিডের প্রতি বর্ণবাদী বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্যের কোনো স্থান ফুটবলে নেই।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, গত ৩ জুলাই মায়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার শেষ ষোলোর ম্যাচ চলাকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে।
বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “ফিফা সব ধরনের বর্ণবাদ, ঘৃণা ও বৈষম্যের তীব্র নিন্দা জানায়। আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে আইশোস্পিডকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।”
আইশোস্পিডের প্রকৃত নাম ড্যারেন ওয়াটকিনস জুনিয়র। ফিফা, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্স স্পোর্টস এবং ইউটিউবের সঙ্গে একটি চুক্তির আওতায় তিনি বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচে উপস্থিত থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করে আসছেন। এই চুক্তির ফলে তিনি ম্যাচের অফিসিয়াল সম্প্রচারও একযোগে প্রচার করতে পারেন।
মায়ামিতে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচ চলাকালে লাইভস্ট্রিমের সময় এক নারী দর্শক গ্যালারির রেলিংয়ের ওপর ঝুঁকে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে আইশোস্পিড জানতে চাইলে ওই সমর্থক স্প্যানিশ ভাষায় তাকে ‘চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদতে’ বলেন, যা বর্ণবাদী বিদ্রূপ হিসেবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা আইশোস্পিডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১৫ কোটিরও বেশি। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার ৫ কোটি ৭০ লাখ, ইনস্টাগ্রামে অনুসারী ৫ কোটি, টিকটকে ৪ কোটি ৭০ লাখ এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) ৪১ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। বিশ্বকাপের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
গত মাসে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত একটি বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ত্যাগের সময় অসংখ্য ভক্ত তাকে ঘিরে ধরেন। নিরাপত্তাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যেই তাকে স্টেডিয়াম থেকে বের করে আনতে হয়।
ফিফা তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, বিশ্বকাপ হলো “ঐক্য, বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার” একটি বৈশ্বিক উৎসব। যারা এসব মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে, তাদের জন্য এই আসরে কোনো স্থান নেই বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।