অভাবের ছাপরাঘরে সাফল্যের আলো; মেডিকেলে সুযোগ পেলেও দুশ্চিন্তায় তিথি

0
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাসার সামনে তিথি সাহা।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাবা ভ্যানে করে জুস-মসলা ডেলিভারি দেন, আর মা ঘরে পাঁপড় ও ঠোঙা বানিয়ে বিক্রি করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে বড় মেয়ে তিথি সাহা (১৯) নিয়ে এসেছেন এক চিলতে সুখের খবর।

এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এই আনন্দের খবরই এখন পরিবারটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক অসংগতির কারণে তিথির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার পথে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তিথি সাহা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ ছাপরাঘরে উইপোকায় খাওয়া কাঠের বেড়ার আড়ালে বসবাস তিথিদের। অর্থাভাবে মা-বাবা শোবার ঘরে থাকতে না পেরে বারান্দায় রাত কাটান।

তিথির মা মাধবী সাহা বলেন, “মেধাবী মেয়েকে এ পর্যন্ত আনতে খেয়ে, না-খেয়ে দিন কেটেছে। ফরম পূরণের টাকাও ধার করে জোগাড় করেছি। শিক্ষকরা অনেকে বিনা মূল্যে পড়িয়েছেন বলে আজ ও মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু এখন ভর্তির টাকা কোথায় পাব?” আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালীরা এগিয়ে না এলে অর্থের অভাবে থমকে যেতে পারে এক সংগ্রামী মেধাবীর স্বপ্ন।