ভোরে এনবিআর কর্মীর ফোনে এলো প্রশ্নপত্র, সকাল হতেই উত্তরসহ ছড়িয়ে পড়ল চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে

0
ছবিতে ওপরে বাঁ থেকে নূর মোহাম্মদ, জাহাঙ্গীর ও আসাদুল ইসলাম; নিচে বাঁ থেকে এস এম ইমদাদুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান ।। ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এনবিআরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী ও চক্রের সদস্যসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত তিন দিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্র, প্রবেশপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও সনদপত্র জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম এবং চক্রের দুই সদস্য মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্য পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এই পরীক্ষায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। ওই দিন বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। এই ঘটনার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। পরে ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে মুঠোফোনে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদের কাছে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি আসে। এর পৌনে দুই ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৬টার দিকে একই প্রশ্নপত্রের আরও স্পষ্ট ছবি পান কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর। এরপর সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন এবং তৃতীয় শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্ন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

এনবিআরের ওই দুই কর্মী কার কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁরা সদুত্তর দেননি। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেউ এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা তদন্ত শেষেই নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে জানিয়েছে এসআরবি। উল্লেখ্য, স্থগিত হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষা আজ নতুন করে নেওয়া হয়েছে।