শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব উদযাপনে খুলনাবাসীকে হুইপ বকুলের কৃতজ্ঞতা

0

স্টাফ রিপোর্টার্র, লোকসমাজ : শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়ায় খুলনা-৩ আসনসহ খুলনাবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এ উৎসব আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের যে বার্তা ছড়িয়েছে, তা সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

হুইপ বকুল বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, মন্দির পরিচালনা কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা উৎসবের পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সবার নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু দেশ সবার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চার মধ্য দিয়েই নিরাপদ, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার যে চিরন্তন বার্তা পাওয়া যায়, তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে ভালোবাসা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধকে ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে হুইপ বকুল ভবিষ্যতেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সব ধর্ম ও মতের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, পারস্পরিক আস্থা এবং সহনশীলতার চর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরও শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, ঐক্য আমাদের অঙ্গীকার—এই বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।