সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগ

0
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারে বাধা দেওয়ায় হত্যার হুমকির অভিযোগ
সুন্দরবন- ফাইল ফটো

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, হরিণ শিকারসহ বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হত্যার হুমকি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন মোংলার চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির (সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি) সভাপতি মো. ফারুক হাওলাদার। এ ঘটনায় তিনি মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বুধবার রাত ৯টার দিকে মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

ফারুক হাওলাদার বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির কার্যক্রমের ফলে বনকেন্দ্রিক একটি চক্রের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, মোংলার জয়মনি এলাকার সোহেল শেখ এবং চিলা এলাকার গাববুনিয়ার মিলন শেখ ‘রাজ খান’ ও ‘মিডিয়া সেল মোংলা’ নামে ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাওলাদার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি মৌসুমি ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চাঁদপাই রেঞ্জের কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি জানান, নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও হুমকির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা, অবৈধভাবে মাছ শিকার এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী নিধন বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

তবে ফারুক হাওলাদারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সোহেল শেখ। তিনি বলেন, ফারুক হাওলাদার ও তার সহযোগীরাই সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন।

অপর অভিযুক্ত মিলন শেখের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।