বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলশূন্য প্রথমার্ধ
বিশ্বকাপ ফাইনালে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করছেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ ও স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া। [এএফপি]

ক্রীড়া ডেস্ক, লোকসমাজ : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পেন বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখালেও আর্জেন্টিনার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। অন্যদিকে লিওনেল মেসির দল পুরো প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি।

প্রথমার্ধে স্পেন বলের দখলে ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ সময়। তারা মোট তিনটি শট নেয়, যার মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক ছোট পাসের ফুটবল খেলতে থাকে। পঞ্চম মিনিটে লামিন ইয়ামাল বক্সের ভেতরে দারুণ এক-দুই পাস খেলে প্রথম সুযোগ তৈরি করেন। তবে সংকীর্ণ কোণ থেকে নেওয়া তার শট রুখে দেন মার্টিনেজ। পরে ১৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে ইয়ামালের বিপজ্জনক ক্রসও নিরাপদে সংগ্রহ করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

আর্জেন্টিনার হয়ে ষষ্ঠ মিনিটে মেসি রক্ষণভাগের পেছনে দৌড়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদমুক্ত করেন দলকে। ২২তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মেসির অসাধারণ পাসে নিকোলাস গনসালেজ স্পেনের বক্সে প্রবেশের সুযোগ পেলেও বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।

২৯তম মিনিটে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে থামাতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনা। এরপর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৩১তম মিনিটে ইয়ামালের নিচু পাস ডানি ওলমোর নাগালের বাইরে চলে যায়। এক মিনিট পর অ্যালেক্স বায়েনার ক্রস আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ হেড করে দূরে সরিয়ে দেয়।

৩৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনা বাম দিক থেকে একটি ফ্রি-কিক পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। ৩৪তম মিনিটে মেসি দ্রুত ফ্রি-কিক নিয়ে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্পেনের চাপের মুখে সেই সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়।

৩৭তম মিনিটে ওলমো একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা তৈরির চেষ্টা করেন, কিন্তু আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তখনও অটুট। ৩৮ মিনিটে স্পেনের আক্রমণের চাপ আরও বাড়তে থাকে। একটি আক্রমণ ব্যর্থ হলে সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি আক্রমণ গড়ে তুলতে দেখা যায় তাদের।

৩৯তম মিনিটে স্পেনের স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবাল প্রথম বড় সুযোগ পান। বক্সের বাইরে থেকে প্রথম স্পর্শেই নেওয়া তার শট সহজেই ধরে ফেলেন মার্টিনেজ। ৪১তম মিনিটে ওইয়ারসাবালকে পেছন থেকে ফাউল করায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন।

৪২তম মিনিটে স্পেন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাম প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে মার্ক কুকুরেয়া জোরালো নিচু শট নেন। বলটি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। একই মিনিটে পেদ্রো পোরোর একটি ক্রসও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৪৪তম মিনিটে আর্জেন্টিনা বড় ধাক্কা খায়। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি।

নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও লম্বা পাসে দৌড় দেন মেসি, কিন্তু উনাই সিমন আগে পৌঁছে বিপদ দূর করেন। শেষ মুহূর্তে স্পেন ধৈর্য ধরে বলের দখল ধরে রেখে আর্জেন্টিনাকে অবস্থান থেকে বের করে আনার চেষ্টা করলেও কোনো দলই আর গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

প্রথমার্ধের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

  • স্কোর: স্পেন ০-০ আর্জেন্টিনা
  • বল দখল: স্পেন ৬৪%, আর্জেন্টিনা ৩৬%
  • স্পেনের শট: ৩টি
  • লক্ষ্যে শট: ২টি
  • আর্জেন্টিনার শট: ০টি
  • হলুদ কার্ড: লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
  • চোটের কারণে বদলি: লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বদলে নিকোলাস ওতামেন্দি