বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ
গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর হতাশ স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রি। [এএফপি]

ক্রীড়া ডেস্ক, লোকসমাজ : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা মেলেনি। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের লাগাতার আক্রমণ, আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল তুলনামূলক ধীরগতির। ৪৮তম মিনিটে কর্নার থেকে লিওনেল মেসির ক্রসের সুযোগ তৈরি হলেও তা স্পেনের প্রথম ডিফেন্ডারেই আটকে যায়। এরপর ৫১তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে রদ্রির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ৫২তম মিনিটে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

৫৫তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের নেতৃত্বে স্পেনের একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে আটকে যায়। পরের মিনিটেই কর্নার থেকে সুযোগ নষ্ট করে স্প্যানিশরা। ৫৮তম মিনিটে গনসালো মন্তিয়েলের পরিবর্তে নাহুয়েল মোলিনাকে নামায় আর্জেন্টিনা।

৬০তম মিনিটে পারেদেসের ফাউলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় স্পেন। তবে লামিন ইয়ামালের শট আর্জেন্টিনার মানবদেয়ালে আঘাত করে ফিরে আসে। এরপর ৬২তম মিনিটে স্পেন কোচ দুই পরিবর্তন এনে মাঠে নামান ফেরান তোরেস ও পেদ্রিকে।

৬৪তম মিনিটে ডানি ওলমোর জোরালো শটে কিছুটা বিপদে পড়েন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এক মিনিট পর টানা কর্নার থেকে চাপ বাড়ায় স্পেন। ৬৭তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে স্প্যানিশদের সামনে। ইয়ামালের নিখুঁত ক্রসে ফেরান তোরেসের হেড সরাসরি মার্টিনেজের হাতে চলে গেলে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন।

৬৮তম মিনিটে হাইড্রেশন বিরতির পর আর্জেন্টিনা রক্ষণ শক্তিশালী করতে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে ফাকুন্দো মেদিনা এবং জুলিয়ানো সিমেওনেকে মাঠে নামায়। অন্যদিকে ৭৪তম মিনিটে ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনার জায়গায় মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামায় স্পেন।

৭৬তম মিনিটে পেদ্রির শট গোলরক্ষক সহজেই সামলে নেন। এরপর ৭৭ ও ৭৮ মিনিটে টানা আক্রমণ এবং কর্নার আদায় করেও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি স্পেন। ৮০ মিনিটের দিকে ম্যাচের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আর্জেন্টিনা নিজেদের অর্ধে গভীরভাবে অবস্থান নিয়ে রক্ষণ সামলাতে থাকে, আর স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যায়।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে স্পেনের চাপ আরও বেড়ে যায়। ৮৩তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ হলুদ কার্ড দেখেন। ৮৫তম মিনিটে ফেরান তোরেসের আরেকটি প্রচেষ্টা রক্ষণভাগ আটকে দেয়। ৮৭তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর পাস থেকে সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তোরেস।

৮৯তম মিনিটে দূরপাল্লার শট নেন রদ্রি, তবে বল অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসিকে ফাউল করে ফ্রি-কিক উপহার দেয় স্পেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা তা কাজে লাগাতে পারেনি।

নাটকীয়তা আসে ৯০+৪ মিনিটে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দেরিতে করা এক ট্যাকলের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ভিএআর পর্যালোচনার পরও রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

৯০+৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় স্পেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ সুযোগ হিসেবে নেওয়া সেই ফ্রি-কিকে শট নেন লামিন ইয়ামাল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ দক্ষতায় বলটি প্রতিহত করেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় গোলশূন্যভাবে শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এখন দেখার বিষয়, ১০ জনের আর্জেন্টিনা কি স্পেনের আক্রমণের ঢেউ সামলে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে, নাকি অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।