শালিখায় ক্রেডিট ইউনিয়নের দেড় কোটি টাকা সরিয়ে চেয়ারম্যানের নামে জমি কেনার অভিযোগ

0
shalikha-credit-union-fund-land-purchase-allegation-chairman

শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা : মাগুরার শালিখায় সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’-এর পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের সঞ্চিত অর্থ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরিয়ে নিজের নামে জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও শ্রীহট্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ক্রেডিট ইউনিয়নের হিসাব থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা স্থানান্তর করে উপজেলার জুনারি, হাজরাহাটি ও আড়পাড়া এলাকায় মোট ১ একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজের নামে ক্রয় করেছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ‘শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’ ২০১৩ সাল থেকে শালিখার আড়পাড়া বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১২ সালের ১৮ জুলাই সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সদস্য সংগ্রহ, আমানত গ্রহণ ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫৪৬ জন আমানতকারী রয়েছেন এবং তাদের সঞ্চিত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ক্রেডিট ইউনিয়নের একাধিক সূত্রের দাবি, ছয় সদস্যের পরিচালনা কমিটি থাকলেও চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শালিখা শাখায় থাকা প্রতিষ্ঠানের দুটি হিসাব থেকে পাঁচ দফায় মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা পাঁচ ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরে ওই অর্থের বিনিময়ে জুনারি, হাজরাহাটি ও আড়পাড়া এলাকায় মোট ১ একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজের নামে কেনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, “শুরুতে কালবের সঙ্গে কাজ করলেও প্রায় দুই বছর আগে সেখান থেকে বের হয়ে এখন নিজেদের মতো করে সমিতি পরিচালনা করা হচ্ছে।”

সূত্রগুলো আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট জমিগুলোর বিষয়ে বাহারুল ইসলামের নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিলও সম্পাদন করা হয়েছে। তবে দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আমানতকারীদের মধ্যে তাদের সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আমানতকারীরা বলেন, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের সংগঠন হওয়ায় তারা আস্থার সঙ্গে এখানে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার করে চেয়ারম্যানের নামে সম্পত্তি কেনার অভিযোগ ওঠায় ভবিষ্যতে আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিচালনা কমিটির সদস্য ও আড়পাড়া মহিলা কলেজের ডেমোনেস্ট্রেটর সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ বছরের শুরুতে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানের তহবিল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকা এবং ব্যক্তি বিশেষের নামে আমমোক্তারনামা তৈরি করা নিয়মের ব্যত্যয়।”

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বলেন, “আমানতকারীদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি কেনা হয়েছে। আমি শিক্ষকতা করি, নিয়ম-কানুন ভালো জানি না। ক্রেডিট ইউনিয়নের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শাহাজুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করেই জমি কেনা হয়েছে। জমি আমার নামে কেনা হলেও এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।”

তবে ক্রেডিট ইউনিয়নের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শাহাজুল হক চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

মাগুরা জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে জমি ক্রয় করা এখতিয়ারবহির্ভূত ও অনিয়ম। এছাড়া নিজ নামে জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্তও আইনসঙ্গত নয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে সমবায় আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাব, জমির দলিল, ব্যাংক লেনদেনের নথি এবং পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।