মাগুরা পল্লী বিদ্যুতে ২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, জিএমসহ বরখাস্ত ৪

দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

0
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল

শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা : মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরির ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহককে সরাসরি ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মহম্মদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও ভারপ্রাপ্ত জিএম এসএম শাহিন আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে বিলিং সুপারভাইজার সীমা রাণী ঘোষ, বিল প্রস্তুতকারী সুমা রাণী রায় ও মিটার রিডার তুরাব আলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের ওই বিল ইস্যু করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, জিএমসহ বরখাস্ত ৪

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলটিতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এ বিলের পরিমাণ হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, অস্বাভাবিক এই বিল তৈরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।