সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

0
গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা, লোকসমাজ : নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাংগঠনিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর মিন্ট রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সম্প্রতি সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয় তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারার আওতায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে।

পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

এদিকে, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার শ্যামনগর উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংসদ সদস্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবীর, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক ইলাহী মুন্না, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নূর জাহান পারভীন ঝর্ণা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুল আলম, আমজাদ হোসেন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ ও নৈতিক অবস্থান জনআস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

তদন্তের সূত্রপাত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত বলে দাবি করা কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে নিয়ে গঠিত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামায়াত তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্ত শেষে দলীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।