রাজউকের রুয়াপ প্রকল্পে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

0

লোকসমাজ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়া এবং অসম্পূর্ণ অবস্থায় প্রকল্প সমাপ্তির নোটিশ দেওয়ার ফলে তদারকির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে একটি চক্র বিভিন্ন স্থানে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকালে রুয়াপের ৬ নম্বর প্রবেশপথের বিপরীতে মানববন্ধন করেন বাসিন্দারা। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাঁরা আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ, সবুজায়নের স্থান, সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল বন্ধ এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বহিরাগত তরুণদের আড্ডা বসে। এসব স্থানে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদক সেবন চলে। পাশাপাশি একটি চক্রের সহযোগিতায় সেখানে মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তারা আমাদের হাঁটার জায়গা দখল করতে চায়, এখানকার ময়লা পরিশোধনাগার দখল করে বাজার বসাতে চায়। আমরা এটি হতে দিতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে রুয়াপের ভেতরের এবং বাইরের কয়েকজন মিলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করতে চায়, আমরা এগুলো চাই না। কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা ও দখল আমরা এখানে চাই না।’

বাসিন্দাদের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে রাজউক এই প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি বলে দাবি তাঁদের। ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, কমিউনিটি সেন্টার, পার্কিং ভবন, সুইমিং পুল ও ব্যায়ামাগার কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনে এখনো বরাদ্দ না দেওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করেন বাসিন্দারা।

রুয়াপের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সংগঠন ‘নিসর্গ নীলিমা’র উদ্যোক্তা নিলোফার জাহান ববি বলেন, ‘আমরা একটি সরকারি আবাসিক এলাকায় থাকি। এখানে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এসব চাই না। আমরা বসবাসের উপযোগী একটি রুয়াপ চাই।’

বাসিন্দা কৃষিবিদ শাহীন আনোয়ার বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় মেনে নেব না।’

আরেক বাসিন্দা মানিক মানবিক অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিভিন্ন স্থান ও সড়ক দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কতিপয় লোক, যারা রুয়াপে বাসিন্দা, তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রুয়াপের বিভিন্ন জায়গা ও রাস্তা দখল করতে চায়। সকালে বাজার বসে, বিকেলে বাজার বসে। জনসমাগমের আশপাশে মাদকের আড্ডা বসে। এসব চলতে দেওয়া যাবে না।’

মানববন্ধন থেকে বাসিন্দারা অবৈধ দখল উচ্ছেদ, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকল্পের অসমাপ্ত অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বাসিন্দাদের মতে, সরকারি এই আবাসন প্রকল্পকে নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী রাখতে নিয়মিত তদারকি, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।