যশোরে মহালয়ায় তিলতর্পণ, বাঘারপাড়ায় শতকণ্ঠে চণ্ডীপাঠ

0
যশোরে মহালয়ায় তিলতর্পণ, বাঘারপাড়ায় শতকণ্ঠে চণ্ডীপাঠ
মহালয়া উপলক্ষে যশোরের বাঘারপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দেবী মাহাত্ম্যম্: শতকণ্ঠে মাতৃ আবাহন’ শীর্ষক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনাপর্ব মহালয়া উপলক্ষে যশোর শহর ও বাঘাড়পাড়ায় তিলতর্পণ, চণ্ডীপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা ও নানা আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় আবহ ও উৎসবের আমেজ।

যশোর শহরে তিলতর্পণ ও ধর্মীয় কর্মসূচি

মহালয়ার পুণ্যতিথিতে প্রয়াত পিতা-মাতা ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় যশোরের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে তিলতর্পণ করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় চণ্ডীপাঠ, পূজা ও ধর্মীয় আলোচনা।

রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের পুকুরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তিলতর্পণ শুরু হয়। এতে পৌরোহিত্য করেন কালীপদ চক্রবর্তী।

শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির উদ্যোগে কালেক্টরেটের উত্তর পাশে আয়োজিত তিলতর্পণ অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন উজ্জ্বল লাহিড়ী।

এদিকে, সনাতন ধর্মসংঘ যশোরের উদ্যোগে পৌর উদ্যানের পুকুরে সকালে পূজা, চণ্ডীপাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিলতর্পণ ও পার্বণশ্রাদ্ধের আয়োজন করা হয়। এতে পৌরোহিত্য করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল কুমার চক্রবর্তী।

এসব আয়োজনে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের সূচনার তিথি। এদিন প্রয়াত স্বজন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল, জলসহ বিভিন্ন উপাচারের মাধ্যমে তর্পণ করা হয়। একই সঙ্গে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতীক্ষা।

বাঘারপাড়ায় শতকণ্ঠে চণ্ডীপাঠ ও মাতৃ আবাহন

মহালয়া উপলক্ষে যশোরের বাঘারপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দেবী মাহাত্ম্যম্: শতকণ্ঠে মাতৃ আবাহন’ শীর্ষক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের বাঘারপাড়া শাখা এবং কালুডাঙ্গা হাজরাতলা শিবমন্দিরের সার্বিক সহযোগিতায় মন্দির প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।

প্রদীপ প্রজ্বালন, শঙ্খধ্বনি, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও হরিলীলামৃত পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পরিবেশিত হয় মহিষাসুরমর্দিনী, চণ্ডীপাঠ, শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্, ভক্তিগীতি ও নৃত্য।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রায় শতকণ্ঠে সমবেত চণ্ডীপাঠ। এতে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লোকনাথ গীতা প্রচার সংঘ, স্বামীবাগ, ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক রানারের ডেপুটি এডিটর প্রণব দাস, চ্যানেল ওয়ান নিউজের যশোর জেলা প্রতিনিধি ইন্দ্রজিৎ রায়, খুলনার ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সুমন কুমার দাস এবং সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের যশোর জেলা সভাপতি বিদ্যুৎ দে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রবীন অধিকারী।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের বাঘারপাড়া শাখার সভাপতি চন্দন ভট্টাচার্য। তিনি শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্ পাঠেও অংশ নেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন অনিন্দিতা সাহা রাই, প্রত্যয় রায়-সম, তপু সরকার ও প্রান্ত চক্রবর্তী। হরিলীলামৃত পাঠ করেন অক্ষয় সরকার।

সাংস্কৃতিক পর্বে ভক্তিগীতি ও নৃত্য পরিবেশন করেন অনুপম রায়, মিন্টু মজুমদার, ঐন্দ্রিলা, রুদ্র বিশ্বাস, সৃষ্টি বিশ্বাস, অদ্রিতা অর্থী, দিব্য বিশ্বাস, সেঁজুতি বিশ্বাস, সৌম বিশ্বাস, প্রেমা বিশ্বাস, দ্যূতি বিশ্বাস, অর্ঘ্য বিশ্বাস, অদ্রিতা ঘোষ, চন্দ্রা বিশ্বাস, অন্বেষা মণ্ডল, প্রত্যয় রায়-সম, সাগর পাল, সপ্তক বিশ্বাস, অদ্রিতা মজুমদার, হীরা রায়, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সাগর রুদ্র, কমল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, উজ্জ্বল হালদার, মিন্টু বিশ্বাস ও বাসুদেব সেনসহ অনেকে।

মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা হাজরাতলা শিবমন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত হন। মন্দির চত্বর ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলা। সেখানে শাঁখা, সিঁদুর, আলতা, পলা ও চুড়ির পাশাপাশি পাঁপড়, বাদাম, ঝালমুড়ি, আখের রস, বাতাসা, গজা, মিষ্টি ও শিশুদের খেলনাসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা।

ধর্মীয় আচার, চণ্ডীপাঠ, সংগীত ও মেলাকে ঘিরে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে বাঘারপাড়ার কালুডাঙ্গা হাজরাতলা শিবমন্দির এলাকায়।