মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও অর্থ, জানুন ফজিলত ও গুরুত্ব

0
মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও অর্থ, জানুন ফজিলত ও গুরুত্ব

লোকসমাজ ডেস্ক : মহান আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণ, মহিমা ও পরিপূর্ণতার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর সুন্দরতম নামগুলোর মাধ্যমে। এসব নাম ইসলামের পরিভাষায় ‘আল-আসমাউল হুসনা’, অর্থাৎ সর্বোত্তম ও সুন্দরতম নাম হিসেবে পরিচিত। পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে আল্লাহর এসব নামের উল্লেখ রয়েছে।

পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহর সুন্দর নামের কথা বলা হয়েছে। সুরা আল-আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।’

এ ছাড়া সুরা আল-ইসরা (আয়াত ১১০), সুরা ত্বহা (আয়াত ৮) এবং সুরা আল-হাশরের (আয়াত ২২-২৪) আয়াতেও আল্লাহর সুন্দর নামের উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর নামগুলো জানা, সেগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করা এবং এসব নামের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর ৯৯টি নাম রয়েছে, এক কম একশ। যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৭৭)

এ হাদিসে আল্লাহর নামগুলো আয়ত্ত করার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তবে ‘আয়ত্ত করা’ বলতে শুধু মুখস্থ করাই নয়; বরং নামগুলোর অর্থ বোঝা, সেগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করা এবং সেসব নামের মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।

আল্লাহর ৯৯টি নামের তালিকা নিয়ে মতপার্থক্য

আল্লাহর ৯৯টি নামের বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তবে বুখারি ও মুসলিম শরিফে নামগুলোর নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সুনানে তিরমিজিসহ কয়েকটি হাদিসগ্রন্থে ৯৯টি নামের একটি তালিকা সংকলিত হয়েছে।

এ তালিকার সনদ ও নামগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মুহাদ্দিস ও আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ইমাম তিরমিজি তাঁর বর্ণনাটিকে ‘গরিব’ বলেছেন এবং নামগুলোর তালিকাসহ বর্ণনার সনদ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। ফলে প্রচলিত তালিকাটিকে সরাসরি সর্বসম্মত বা অকাট্য তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

নিচে সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত প্রচলিত তালিকাটি অর্থসহ তুলে ধরা হলো।

মহান আল্লাহর ৯৯টি সুন্দর নাম ও অর্থ

হুয়াল্লাহুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া

১. আর-রহমান — পরম করুণাময়।

২. আর-রহিম — অসীম দয়ালু।

৩. আল-মালিক — সর্বময় অধিপতি।

৪. আল-কুদ্দুস — মহাপবিত্র।

৫. আস-সালাম — ত্রুটিমুক্ত ও শান্তিদাতা।

৬. আল-মুমিন — নিরাপত্তাদানকারী।

৭. আল-মুহাইমিন — সর্বতত্ত্বাবধায়ক ও সংরক্ষণকারী।

৮. আল-আজিজ — মহাপরাক্রমশালী।

৯. আল-জাব্বার — মহাপ্রতাপশালী ও সংশোধনকারী।

১০. আল-মুতাকাব্বির — মহত্ত্ব ও বড়ত্বের অধিকারী।

১১. আল-খালিক — সৃষ্টিকর্তা।

১২. আল-বারি — অস্তিত্বদানকারী।

১৩. আল-মুসাওয়ির — আকৃতিদানকারী।

১৪. আল-গাফফার — বারবার ক্ষমাকারী।

১৫. আল-কাহহার — সর্বজয়ী ও পরাভূতকারী।

১৬. আল-ওয়াহহাব — মহাদাতা।

১৭. আর-রাজ্জাক — রিজিকদাতা।

১৮. আল-ফাত্তাহ — উন্মুক্তকারী ও ফয়সালাকারী।

১৯. আল-আলিম — সর্বজ্ঞ।

২০. আল-কাবিদ — সংকোচনকারী।

২১. আল-বাসিত — সম্প্রসারণকারী।

২২. আল-খাফিদ — অবনতকারী।

২৩. আর-রাফি — উন্নীতকারী।

২৪. আল-মুইয — সম্মানদাতা।

২৫. আল-মুযিল — অপমানিতকারী।

২৬. আস-সামি — সর্বশ্রোতা।

২৭. আল-বাসির — সর্বদ্রষ্টা।

২৮. আল-হাকাম — চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।

২৯. আল-আদল — ন্যায়বিচারক।

৩০. আল-লতিফ — অতি সূক্ষ্মদর্শী ও অনুগ্রহশীল।

৩১. আল-খবির — সর্ববিষয়ে অবহিত।

৩২. আল-হালিম — পরম সহনশীল।

৩৩. আল-আজিম — মহামহিম।

৩৪. আল-গাফুর — পরম ক্ষমাশীল।

৩৫. আশ-শাকুর — অল্প আমলের অধিক প্রতিদানদাতা।

৩৬. আল-আলিয়্যু — সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

৩৭. আল-কাবির — সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান।

৩৮. আল-হাফিজ — সংরক্ষণকারী।

৩৯. আল-মুকিত — জীবিকা ও শক্তি সরবরাহকারী।

৪০. আল-হাসিব — হিসাব গ্রহণকারী ও যথেষ্ট।

৪১. আল-জালিল — মহিমান্বিত।

৪২. আল-কারিম — মহাদানশীল।

৪৩. আর-রাকিব — সদা পর্যবেক্ষণকারী।

৪৪. আল-মুজিব — দোয়া কবুলকারী।

৪৫. আল-ওয়াসি — অসীম ব্যাপকতার অধিকারী।

৪৬. আল-হাকিম — প্রজ্ঞাময়।

৪৭. আল-ওয়াদুদ — পরম প্রেমময়।

৪৮. আল-মাজিদ — মহাগৌরবময়।

৪৯. আল-বা’ইস — পুনরুত্থানকারী।

৫০. আশ-শাহিদ — সর্বসাক্ষী।

৫১. আল-হাক্ক — চিরসত্য।

৫২. আল-ওয়াকিল — কর্মবিধায়ক ও নির্ভরযোগ্য অভিভাবক।

৫৩. আল-কাওয়িয়্যু — মহাশক্তিশালী।

৫৪. আল-মাতিন — সুদৃঢ় শক্তির অধিকারী।

৫৫. আল-ওয়ালিয়্যু — অভিভাবক ও সাহায্যকারী।

৫৬. আল-হামিদ — সব প্রশংসার অধিকারী।

৫৭. আল-মুহসি — সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণকারী।

৫৮. আল-মুবদি — প্রথমবার সৃষ্টিকারী।

৫৯. আল-মু’ঈদ — পুনরায় সৃষ্টিকারী।

৬০. আল-মুহয়ি — জীবনদানকারী।

৬১. আল-মুমিত — মৃত্যুদানকারী।

৬২. আল-হাইয়্যু — চিরঞ্জীব।

৬৩. আল-কাইয়্যুম — স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত এবং সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।

৬৪. আল-ওয়াজিদ — অভাবমুক্ত ও সর্বপ্রাপ্ত।

৬৫. আল-মাজিদ — মহামর্যাদাবান।

৬৬. আল-ওয়াহিদ — একক।

৬৭. আস-সামাদ — অমুখাপেক্ষী ও সবার আশ্রয়স্থল।

৬৮. আল-কাদির — সর্বক্ষমতাবান।

৬৯. আল-মুকতাদির — পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী।

৭০. আল-মুকাদ্দিম — অগ্রসরকারী।

৭১. আল-মুয়াখখির — পশ্চাৎবর্তীকারী।

৭২. আল-আউয়াল — সর্বপ্রথম।

৭৩. আল-আখির — সর্বশেষ।

৭৪. আয-জাহির — প্রকাশ্য ও সর্বোচ্চ।

৭৫. আল-বাতিন — অপ্রকাশ্য ও অন্তর্নিহিত।

৭৬. আল-ওয়ালি — সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী।

৭৭. আল-মুতা’আলি — সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।

৭৮. আল-বার্র — পরম কল্যাণকারী।

৭৯. আত-তাওয়াব — তাওবা কবুলকারী।

৮০. আল-মুনতাকিম — প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

৮১. আল-আফুউ — পাপ মোচনকারী।

৮২. আর-রাউফ — পরম স্নেহশীল।

৮৩. মালিকুল মুলক — সমগ্র রাজত্বের মালিক।

৮৪. যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম — মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

৮৫. আল-মুকসিত — ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী।

৮৬. আল-জামি — একত্রকারী।

৮৭. আল-গানিয়্যু — অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত।

৮৮. আল-মুগনি — অভাবমোচনকারী।

৮৯. আল-মানি — প্রতিরোধকারী।

৯০. আদ-দার — ক্ষতি সংঘটনের ক্ষমতার অধিকারী।

৯১. আন-নাফি — উপকারদানকারী।

৯২. আন-নূর — আলো।

৯৩. আল-হাদি — পথপ্রদর্শক।

৯৪. আল-বাদি — অতুলনীয় সৃষ্টির উদ্ভাবক।

৯৫. আল-বাকি — চিরঅবশিষ্ট।

৯৬. আল-ওয়ারিস — চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী।

৯৭. আর-রাশিদ — সঠিক পথপ্রদর্শক।

৯৮. আস-সবুর — অত্যন্ত ধৈর্যশীল।

৯৯. আল-আহাদ — এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো সমকক্ষ বা অংশীদার নেই।

তালিকার সূত্র: সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫০৭। উল্লেখ্য, এ হাদিসের মূল বর্ণনায় আল্লাহর ৯৯টি নামের তালিকা থাকলেও তালিকাটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের আলোচনা রয়েছে।

আল্লাহর নাম কি শুধু ৯৯টি?

আল্লাহর সুন্দর নামের সংখ্যা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মহান আল্লাহর নাম কি কেবল ৯৯টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি তাঁর আরও অনেক সুন্দর নাম রয়েছে?

আলেমদের একটি প্রসিদ্ধ মত হলো, আল্লাহর নাম শুধু ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ৯৯টি নামের হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে; তাঁর নামের মোট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি।

এ মতের পক্ষে তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি দোয়ার হাদিস উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, তাঁর কাছে থাকা এমন সব নামের উসিলায়, যেসব নাম তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন, তাঁর কিতাবে নাজিল করেছেন, কোনো সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন অথবা অদৃশ্য জগতের জ্ঞানে নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন।

এ হাদিস থেকে আলেমরা বুঝিয়েছেন, আল্লাহর এমন কিছু নামও রয়েছে, যা মানুষের জানা নেই। ফলে তাঁর নামকে কেবল ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না।

অন্যদিকে কিছু আলেম ৯৯টি নামের সংখ্যাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতামত রয়েছে।

আল্লাহর নামের তালিকা নিয়েও মতপার্থক্য দেখা যায়। বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে সংকলিত তালিকায় কিছু নামের পার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো তালিকায় এমন নাম পাওয়া যায়, যা অন্য তালিকায় নেই। আবার কোরআন ও সুন্নাহর বিভিন্ন স্থানে আল্লাহর আরও অনেক নাম ও গুণবাচক পরিচয় পাওয়া যায়।

৯৯টি নামের হাদিসের ব্যাখ্যা কী?

আল্লাহর নাম ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এ মত গ্রহণ করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ৯৯টি নামের কথা উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তার তাৎপর্য কী?

এ বিষয়ে আলেমরা একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা হলো, হাদিসে আল্লাহর নামের মোট সংখ্যা ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বরং বিশেষভাবে ৯৯টি নামের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি এসব নাম যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

বিষয়টি বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। কেউ যদি বলেন, ‘আমার কাছে একশটি ঘোড়া রয়েছে, যা আমি আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি’, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর কাছে মোট ঘোড়া একশটিই। বরং ওই একশটি ঘোড়া একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে—এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

একইভাবে আল্লাহর ৯৯টি নামের হাদিসের অর্থও এমন হতে পারে যে, তাঁর অসংখ্য সুন্দর নামের মধ্যে ৯৯টি নাম বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। যে ব্যক্তি এসব নাম যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে, সেগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করবে এবং সেসব নামের মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।

৯৯টি নাম কি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে?

এ বিষয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলো, হাদিসে বর্ণিত বিশেষ ফজিলতসম্পন্ন ৯৯টি নাম কি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে?

অনেক আলেমের মতে, সহিহ হাদিসে ৯৯টি নামের কথা বলা হলেও সেগুলোকে আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ফলে তিরমিজির বর্ণিত তালিকাকেই একমাত্র চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা নেই।

এ প্রসঙ্গে লাইলাতুল কদরের উদাহরণ দেওয়া হয়। রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাতটি নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। একইভাবে জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টিও সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

এ ধরনের বিধানের একটি তাৎপর্য হলো, মানুষ যেন নির্দিষ্ট একটি সময় বা কয়েকটি আমলের মধ্যে নিজেদের ইবাদত সীমাবদ্ধ না রাখে; বরং বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হয়।

আল্লাহর নাম জানা কেন জরুরি?

আল্লাহর সুন্দর নামগুলো শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়। প্রতিটি নামের অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধি করার মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর রবের মহত্ত্ব, দয়া, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও অসীম গুণাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করতে পারেন।

যেমন, ‘আর-রহমান’ নামের অর্থ অনুধাবন করলে আল্লাহর অসীম দয়া ও করুণার পরিচয় পাওয়া যায়। ‘আল-গাফুর’ নাম মানুষকে ক্ষমার আশা জাগায়। ‘আর-রাজ্জাক’ নামের মাধ্যমে বোঝা যায়, রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। আবার ‘আল-আলিম’ নাম স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছুই তাঁর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

তাই আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর অর্থ জানা, সেগুলোর শিক্ষা জীবনে ধারণ করা এবং এসব নামের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল-আসমাউল হুসনার জ্ঞান মানুষকে আল্লাহর পরিচয় ও মহিমা উপলব্ধি করতে এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহায়তা করে।