আজ ২৫ বৈশাখ : কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস।

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : আজ ২৫ বৈশাখ, বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার উৎস বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম এই নক্ষত্র। দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেন। কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধ—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। ১৯১৩ সালে কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি-এর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তিনি এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা এবং ভারতের জাতীয় সংগীত জন গণ মন—উভয়ই তাঁর রচনা। মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গভীর প্রকাশ ঘটেছে তাঁর সাহিত্যকর্মে।

বাংলাদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল গভীর ও আত্মিক। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ছিল তৎকালীন যশোর জেলা ও বর্তমান খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। এছাড়া কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং নওগাঁর পতিসরে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তিনি। এসব অঞ্চলের প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবনযাত্রা তাঁর সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মে বাংলার গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি ও মানুষের সুখ-দুঃখ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর ছোটগল্প পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালাসমাপ্তি মানবিক আবেগের অনন্য উদাহরণ। অন্যদিকে ঘরে বাইরে, গোরা এবং চোখের বালি উপন্যাসে সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

সংগীতেও তাঁর অবদান অনন্য। দুই হাজারের বেশি গান নিয়ে গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রসংগীতের বিশাল ভাণ্ডার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ও কবিতা মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে কবিগুরুকে স্মরণ করে নানা আয়োজন।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক ড.মহিউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক এই সময়েও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে মানবিকতা, সৌন্দর্যবোধ ও মুক্তচিন্তার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সৃষ্টির আবেদন আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়ে উঠছে।