যশোরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন, অভিযানের দাবি এলাকাবাসীর

0
যশোরের টিবি ক্লিনিক এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ: যশোর শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও সেবনের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘ভাঙা বাড়ি’ নামে পরিচিত প্রায় ধসে পড়া সেমিপাকা এই বাড়িটি দিলিপ বাবুর গলির ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় সহজে চোখে পড়ে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত বাড়িটির মালিক কামাল হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দিন-রাত মাদক সেবন ও কেনাবেচার কার্যক্রম চলছে। বাড়ির বিভিন্ন অংশে পর্দা টাঙিয়ে আড়াল তৈরি করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা বাড়ির পেছনের প্রাচীর টপকে হোটেল অরিয়নের পেছনের পথ দিয়ে চারখাম্বার মোড় এলাকায় পালিয়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির ভেতরে কয়েকজন অবস্থান করছেন। এ সময় একজনকে গাঁজা প্রস্তুত করতে এবং পাশে কয়েকজনকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা মাদক সেবনের সরঞ্জাম ফেলে প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিবি ক্লিনিক এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি এই মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের মধ্যে নজরুলের ছেলে জসিম, শুভ এবং আল-আমিন ওরফে ‘চোর আল-আমিন’-এর নাম উল্লেখ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চললেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এমনকি ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করতেও অনেক সময় সমস্যার মুখে পড়তে হয়। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। তাদের দাবি, মাদক কারবার বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিত্যক্ত স্থাপনাটি অপসারণ করা হোক।

বাড়ির মালিক কামাল হোসেন বলেন, “১৯৯০ সালে আমি জমিটি কিনেছি। পরে সেখানে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমি সেখানে বসবাস করি না।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমিও অতিষ্ঠ। তবে যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় আমি নিজেও অসহায় অবস্থায় আছি।”

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি আগে জানা ছিল না। তবে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

এদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, সদ্য বিদায়ী ওসি মাসুম খানকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।