সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদ সাড়ে ১১ হাজার

0
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৮৯ হাজার চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ৩০,৩১১ জন। ১১,৪৯৫টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণে কাজ চলছে। ২-৩ মাসে দূর হবে ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট।। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের পদে চরম ঘাটতির চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় সংসদে। অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে বর্তমানে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের লিখিত জবাব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ ও নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত ৩ বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে এ সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়াকে জানানো হয়, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৫ হাজার ১০০টি এবং বেসরকারি ৬৮টি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৬ হাজার ২৭৮টি।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনের কারণ তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করায় হামের টিকা সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিলের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির হার কমে যায়, যা পরবর্তীতে দেশজুড়ে শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটায়।