যশোরে মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় দখলদার উচ্ছেদ ও খননের দাবিতে স্মারকলিপি

উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে নদীর সংযোগ ও জিয়া খাল পুনঃখননের দাবি মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ: মুক্তেশ্বরী নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে নদীর সংযোগ স্থাপনের দাবিতে যশোরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
রোববার দুপুর ১টায় যশোরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতারা। জেলা প্রশাসক আশেক হাসান স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ভৈরব নদীর শাখা হিসেবে মুক্তেশ্বরী নদী যশোর শহরের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বিল হরিণার ভেতর প্রবাহিত হয়ে সদর, মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও চুড়ামনকাটি হয়ে পুনরায় হরি (ভৈরব) নদীতে মিলিত হয়েছে। উজানের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অবৈধ দখল ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এই অববাহিকায় দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একশ্রেণির ভূমিদস্যু নদী দখল করে প্লট আকারে বিক্রি, নদীভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তনের মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মুক্তেশ্বরী নদী ও এর শাখা খালগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মনোহরতলায় খাল কেটে নদীর প্রবাহ সচল করেছিলেন, যা বর্তমানে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে খালটি দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

যশোরে মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় দখলদার উচ্ছেদ ও খননের দাবিতে স্মারকলিপি
মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন যশোর রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে- লোকসমাজ

আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চাঁচড়া ইউনিয়নে একাধিক দখলদার প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং ব্যক্তিগত দখলদারও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নদী ও খাল ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সূত্রে বলা হয়, বিল হরিণা এলাকায় শত শত একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ ‘বিল হরিণা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে কিছু অংশে উদ্ধার ও খনন কাজ শুরু হয়েছে।
তবে নদী ও খালের বাকি অংশ উদ্ধার ও পুনঃখননের কার্যকর উদ্যোগ এখনও পরিলক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে যশোর শহর, সেনানিবাস ও বিল হরিণাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- মুক্তেশ্বরী নদীর সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং নিজ নিজ খরচে খনন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, জিয়া খাল পুনঃখনন করতে হবে, উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে মুক্তেশ্বরী নদীর সংযোগ স্থাপন করতে হবে, নদী ও খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো সচল রাখতে উজান মাথাভাঙ্গা–ভৈরব নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারুন অর রশিদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, হাসিনুর রহমান, রাশেদ খান প্রমুখ।