‘জিন সাপ’ আতঙ্কে শালিখার ছান্দড়া গ্রাম: লাল পতাকা টাঙিয়ে ‘গ্রাম বন্ধ’

0
মাগুরার শালিখার ছান্দড়া গ্রামে 'জিন সাপ' আতঙ্কে সাপুড়ে এনে উঁচু গাছের চূড়ায় লাল পতাকা টাঙিয়ে 'গ্রাম বন্ধ' করার কবিরাজি আচার।। ছবি: সংগৃহীত

শহীদুজ্জামান চাঁদ শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি ॥ মাগুরার শালিখা উপজেলার ছান্দড়া গ্রামে কথিত ‘জিন সাপ’-এর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাপের কামড়ে এক শিশুর মৃত্যুর পর পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে ভীতি ও উদ্বেগ। পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের আশায় স্থানীয়দের উদ্যোগে এক কবিরাজি আচার পালন করে বড় একটি গাছের চূড়ায় লাল পতাকা টাঙিয়ে ‘গ্রাম বন্ধ’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সাপের কামড়ে ছান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন মোল্যার ১০ বছর বয়সী ছেলে আবির মারা যায়। আবির স্থানীয় একটি মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। শিশুটির মৃত্যুর পর থেকেই গ্রামে কথিত ‘জিন সাপ’-এর উপদ্রব নিয়ে নানা আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, আবিরের মৃত্যুর পর থেকে গ্রামের অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তি সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সাপের প্রজাতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরপর সাপের কামড়ের ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকলে এর প্রতিকার হিসেবে গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে একটি কবিরাজি আচারের আয়োজন করা হয়। এ উদ্দেশ্যে পাশের জেলা যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে একজন সাপুড়ে/ওঝাকে আনা হয়।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি বড় গাছের চূড়ায় লাল পতাকা টাঙানো হয়। এ সময় মন্ত্রপাঠ ও বিভিন্ন নিয়ম পালনের মাধ্যমে কথিতভাবে পুরো গ্রাম ‘বন্ধ’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘটনাটি দেখতে গ্রামের নারী-পুরুষসহ আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন।উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা

আচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছান্দড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, তালখড়ি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু মন্ডল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে লাবলু মন্ডল, অদুৎ মন্ডল, তাহাজৎ মোল্লা, মহিন উদ্দিন, জেকের আলী, কদ্দুস সর্দার ও বিল্লাল হোসেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছান্দড়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুর মৃত্যুর পর সাপের কামড়ের একাধিক ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিছা জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম আছে। সাপের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি। সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ওঝা বা কবিরাজি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।