মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় যশোরে পদযাত্রা, দখলমুক্তের দাবি

উজানে ভৈরব নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাথাভাঙা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদীর সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে যশোরে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকেল ৫টায় ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রাটি পুলেরহাটে মুক্তেশ্বরী নদীর তীর থেকে শুরু হয়ে শহরের দড়াটানা এলাকায় ভৈরব নদীর তীরে গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব রাশেদ খান।

মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় যশোরে পদযাত্রাপদযাত্রা শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, ভৈরব আন্দোলনের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, আহসান উল্লাহ ময়না, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, উদীচী যশোর জেলা সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, হাচিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবুল কায়েসসহ আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদী রক্ষা ছাড়া মানুষ, পরিবেশ ও দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, আদ-দ্বীনসহ প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুক্তেশ্বরী নদীর জমি দখল করে আছে। জেলা প্রশাসনের তদন্তেও এ তথ্য উঠে এসেছে বলে তারা দাবি করেন। তাই অবিলম্বে নদীর সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, নদীর জমি পুনরুদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে উজানে ভৈরব নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে মাথাভাঙা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদীর সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভৈরব নদীর তীরের অবৈধ দখলদারদেরও দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানানো হয়।

তাদের মতে, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে মুক্তেশ্বরী নদী পুনঃখনন এবং ভৈরব নদীর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

সমাবেশ থেকে মুক্তেশ্বরী ও ভৈরব নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।